সর্বশেষ:

‎পাইকগাছা জিরো পয়েন্টে সড়ক প্রশস্তকরণে বড় বাধা বৈদ্যুতিক খুঁটি, বাড়ছে জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার শঙ্কা

Facebook
Twitter
LinkedIn

আলাউদ্দিন সোহাগ,পাইকগাছা (খুলনা)

‎খুলনার পাইকগাছা উপজেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ১৮মাইল-বেতগ্রাম-তালা-পাইকগাছা-কয়রা মহাসড়কের আধুনিকায়ন ও প্রশস্তকরণ কাজ বর্তমানে পুরোদমে এগিয়ে চলছে। সরকারের এই বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পকে স্বাগত জানিয়েছে এলাকাবাসী। তবে পাইকগাছা পৌরসভার প্রাণকেন্দ্র জিরো পয়েন্ট থেকে প্রথম কালভার্ট পর্যন্ত অংশে সড়কের মাঝামাঝি ও দুই পাশে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটি এখন বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শিববাটি ব্রিজ সংলগ্ন পাইকগাছা-কয়রা সড়কের বিভিন্ন অংশে মাটি ভরাট ও সম্প্রসারণ কাজ চলমান রয়েছে। কিন্তু সড়কের নির্ধারিত অংশের ভেতরে থাকা পল্লী বিদ্যুতের একাধিক খুঁটি এখনো অপসারণ করা হয়নি। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পথচারী, মোটরসাইকেল আরোহী এবং পরিবহন চালকরা।‎বিশেষ করে পাইকগাছা জিরো পয়েন্ট এলাকায় যানবাহনের চাপ সবচেয়ে বেশি থাকায় খুঁটিগুলো যান চলাচলে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তার ঢালাই কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই এসব খুঁটি সরানো না হলে সড়ক প্রশস্তকরণের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে।
‎একজন স্থানীয় পথচারী মামুনুর রশিদ বলেন,‎”রাস্তা বড় হচ্ছে এটা অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। কিন্তু রাস্তার মাঝখানে বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখে উন্নয়ন কাজ করলে জনগণের উপকার হবে না। বরং এটি বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।”

‎একজন বাসচালক বাবুল আক্তার জানান,‎”জিরো পয়েন্ট এমনিতেই ব্যস্ত এলাকা। খুঁটির কারণে গাড়ি চালাতে খুব সমস্যা হয়। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে চলতে হয়।”
‎এলাকাবাসী আরও জানান, সড়ক উন্নয়ন কাজের কারণে বর্তমানে কোথাও কাদা, কোথাও পানি জমে চলাচলে ভোগান্তি বাড়ছে। এর সঙ্গে বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
‎কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোজাহার কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে চলছে। বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণের বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।

‎এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম অঞ্জন কুমার সরকার বলেন,”সড়ক ও জনপথ বিভাগ প্রয়োজনীয় অর্থ জমা দিলেই খুঁটি স্থানান্তরের কাজ শুরু করা হবে। বর্তমানে আমাদের নিজস্ব কোনো প্রকল্প নেই।”
‎উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ওয়াসীউজ্জামান চৌধুরী বলেন,‎”সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ এলাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে জনগণের নিরাপত্তার বিষয়টিও সমানভাবে বিবেচনায় রাখতে হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।”‎স্থানীয়দের দাবি, ১৮ মাইল থেকে কয়রা পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জন্য খুলনা, ঢাকা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পর সড়কটি সংস্কার হচ্ছে—তাই কাজের মান নিশ্চিত করা, অবকাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং কঠোর তদারকির মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও টেকসই সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

Facebook
Twitter
LinkedIn

সর্বশেষ খবর

turan hossain rana