
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি
খুলনার পাইকগাছায় আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে অনলাইন বা ভার্চ্যুয়াল জুয়ার প্রবণতা। উচ্চবিত্ত থেকে নিম্নআয়ের মানুষ, এমনকি শিক্ষার্থী ও তরুণদের একটি বড় অংশ দিন দিন জড়িয়ে পড়ছে এই অনলাইন জুয়ার নেশায়। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে এজেন্ট ও সাব-এজেন্ট চক্র। হাত বাড়ালেই মিলছে টপআপ সুবিধা। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সহজেই লেনদেন হওয়ায় বিষয়টি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন মুদি দোকান ও ব্যক্তি বিশেষ গোপনে অনলাইন জুয়ার এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে। বিভিন্ন ফেসবুক পেজ, পাবলিক গ্রুপ ও মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে লোভনীয় অফারের বিজ্ঞাপন ছড়িয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করা হচ্ছে। “অল্প টাকায় কোটিপতি হওয়ার সুযোগ” দেখিয়ে তরুণ সমাজকে প্রলুব্ধ করা হচ্ছে। এসব বিজ্ঞাপনে দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের লোগো, জনপ্রিয় ক্রিকেটার ও মন্ত্রীদের ছবিও ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।
ফেসবুকে প্রবেশ করলেই দেখা যায় নানা কৌশলে প্রচারিত এসব বিজ্ঞাপন। কখনো ভুয়া সংবাদ প্রকাশ করে দাবি করা হচ্ছে— কোনো ব্যক্তি অনলাইন গেম খেলে লাখ লাখ টাকা জিতেছেন। আবার বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও টেলিভিশনের লোগো ব্যবহার করে খেলায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। এতে করে একদিকে অর্থের লোভ, অন্যদিকে নেশার কারণে শিক্ষার্থী ও যুব সমাজ ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, বিদেশ থেকে পরিচালিত শতাধিক বেটিং সাইট বাংলাদেশে সক্রিয় রয়েছে। এসব সাইটে অংশ নিতে অনেক সময় দ্বিগুণ মূল্যে বিদেশি কয়েন, কার্ড বা ডলার কিনতে হয়। এর ফলে দেশের অর্থ বিদেশে পাচার হচ্ছে। কোথাও কোথাও বিটকয়েনের মাধ্যমেও লেনদেন হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনাকালীন সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তরুণদের মধ্যে অনলাইন জুয়ার বিস্তার ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। বর্তমানে শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে শ্রমজীবী মানুষ পর্যন্ত এই জুয়ার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। অনেক পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম কিবরিয়া জানিয়েছে, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তথ্য পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে বেশিরভাগ সাইট বিদেশ থেকে পরিচালিত হওয়ায় অভিযান পরিচালনায় জটিলতা রয়েছে। পুলিশ প্রশাসন অভিভাবকদের সন্তানদের মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রতি নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে সচেতন মহল মনে করছে, অনলাইন জুয়া এখন সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে।
এ ব্যাপারে গোপালপুর গ্রামের সফি গাজী জানান, তার কলেজ পড়ুয়া ছেলে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েছে। তাকে প্রতিদিন টাকা না দিলে ঘর বাড়ী ভাংচুর করছে বা আমাকে মারপিট করছে। অনলাইন জুয়া এখন সামাজিক ব্যধিতে পরিনিত হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব অ্যাপস ও ওয়েবসাইট বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে যুব সমাজ চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। তারা অনলাইন জুয়ার এজেন্ট ও সাব-এজেন্টদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ বিষয়ে প্রচারণা চালানোর দাবি জানিয়েছেন।















