সর্বশেষ:

jomjomat korbanir poshur hat

পাইকগাছার চাঁদখালী “জমজমাট কোরবানির পশুর হাট

jomjomat korbanir poshur hat
Facebook
Twitter
LinkedIn

(পাইকগাছা খুলনা) প্রতিনিধি

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী কোরবানির পশুর হাট শেষ সময়ে জমে উঠছে। বিভিন্ন হাটে প্রচুর পরিমাণ পশু আমদানি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। আবার কয়েকটি হাটে সরজমিনে গিয়ে উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও উপজেলার চাঁদখালী, কাশিমনগর, গদাইপুর, আগড়ঘাটা,রাড়ুলীর শ্রীকন্ঠপুর, বাঁকা বাজার, ঈদগাহ মাঠে কোরবানির পশুর হাট বসেছে। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত প্রতিদিনই হাট বসবে। এসকল হাটে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গরু ও ছাগল নিয়ে আসছেন ব্যবসায়ী ও গৃহস্থরা।

হাটে সারিবদ্ধভাবে গরু-ছাগল সাজিয়ে রাখছেন বিক্রেতারা। দুপুর গড়াতেই ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে থাকে। ক্রেতারা হাটজুড়ে ঘুরে ঘুরে পছন্দের গরু ও ছাগল নির্বাচন করছেন। পছন্দ হলে শুরু হয় দরদাম কষাকষি এমন চিত্র দেখা যায় কাশিমনগর ও চাঁদখালী কোরবানির পশুর হাটে।অনেক পশুর হাটে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ক্রেত-বিক্রেতার ভিড়ে সবাই অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে। পর্যাপ্ত গরু ছাগল উঠলেও ক্রেতা সংকটের কারণে গরুর মালিকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। ক্রেতা সংকটের কারণে খামার মালিক ও বিক্রেতাদের আশা পূরণ হচ্ছে না। এতে করে গরুর যে দাম উঠেছে তাতে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিক্রেতারা। আর বিক্রি না হলে পালতে গেলে আরো খরচ হবে। এদিকে ক্রেতারা সময় নিয়ে দেখে বুঝে গরু কিনছে। বিক্রেতারা জানান, বাজারে প্রচুর পরিমাণে গরু-ছাগল উঠলেও আশানুরুপ দামে বিক্রি হচ্ছে না। গদাইপুর কোরবানির পশুর হাটে ছোট-বড়, মাঝারি সাইজের গরু হাটে উঠেছে। এ বছর গরু-ছাগরের দাম বেশি বলছেন ক্রেতারা। তবে দাম নিয়ে খুঁশি না কোন পক্ষই। খামার মালিক ও বিক্রেতারা বলছেন, বর্তমানে গো খাদের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদেরকে বেশি দামে গরু বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে গৃহস্থদের পালা দেশি জাতের গরু ক্রেতা ও ব্যাপারীদের কাছে চাহিদা বেশি। যাহা স্থানীয় হাটগুলোতে টাইট গরু হিসাবে পরিচিত। বড় সাইজের গরুর চাহিদাও রয়েছে বিক্রিও হচ্ছে ভালো দামে। উপজেলার পশুর হাট গুলোতে ছোট ট্রাকে করে ফড়িয়ারা গরু নিয়ে আসছে। এ সব বাজারে ছোট গরু সর্বনিন্ম ৫৫ হাজার টাকা ও সর্বোচ্চ সাড়ে তিন লাখ টাকায় গরু বিক্রি হচ্ছে। এ বছর দেশীয় জাতের ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি। দেশি জাতের ৬০ হাজার টাকার মধ্যে ছোট গরুর চাহিদা বেশি। তাছাড়া ৭০ থেকে ৯০ হাজার টাকা দামের গৃহপালিত গরুর বিক্রি হচ্ছে প্রচুর। বড় গরু ১ লাখ ২০ হাজার টাকা থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ছাগল ১৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।ব্যাপারি ফারুক গাজী বলেন, গত কোরবানি হাটে যে ষাঁড় এক লাখ থেকে এক লাখ ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেই ষাঁড় ক্রেতারা এবার দাম বলছেন, ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা। এছাড়া ছাগলের দামও গত বছরের তুলনায় অনেক কম বলে দাবি করছেন ব্যাপারী ও গৃস্থরা। তাদের দাবি, মঝারি আকারের ছাগল এবার ১৩ থেকে ১৫ হাজার টাকা দাম বলছেন ক্রেতারা। অথচ এইসব ছাগল গত বছর বিক্রি হয়েছে ১৭ থেকে ১৮ হাজার টাকা। তবে, ঈদের আগের হাটগুলোতে দাম বাড়বে বলে প্রত্যাশা তাদের।উপজেলার পশুর হাট কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী মাইকিং করে বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতাদেরকে উদ্বুদ্ধ করছে। চাঁদখালী পশুর হাটের ইজারাদার নাজমুল হক জানান, ক্রেতাদের সুবিধার্থে পুলিশের পাশাপাশি বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তাছাড়া পশুর স্বাস্থ্য পরিক্ষার জন্য ডাক্তার এর তদারকি রয়েছে। ক্রেতারা স্বাচ্ছন্দের সাথে হাট থেকে পছন্দের পশুটি ক্রয় করতে পারছেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পার্থ প্রতিম রায় বলেন, পাইকগাছায় খামার সহ গৃস্থালি বাড়িতে সকল গরু লালন-পালনে বড় হয়েছে স্বাভাবিক খাবারের মাধ্যমে বড় করা হয়েছে। তারপরও গরু মোটা তাজা করণে ক্ষতিকর কিছু ব্যবহার করা হয়েছে কিনা, সে জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাট গুলোতে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম রয়েছে। আমাদের এখানকার গরুর মান অনেক ভালো।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন,কুরবানির হাট গুলিতে আইনশৃঙ্খলা সদস্য পর্যবেক্ষণ করছে, ক্রেতা বিক্রেতার কোন সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook
Twitter
LinkedIn

সর্বশেষ খবর

turan hossain rana