সর্বশেষ:

paikgachay gorome taler saser chahida briddhi

পাইকগাছায় গরমে তাল শাঁসের চাহিদা বেড়েছে

paikgachay gorome taler saser chahida briddhi
Facebook
Twitter
LinkedIn

আলাউদ্দিন সোহাগ,পাইকগাছা (খুলনা)

প্রচণ্ড গরম ও দাপদাহ থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে খুলনার পাইকগাছায় তালের শাঁসের চাহিদা ও বিক্রি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মধুমাসের শুরুতেই উপজেলার বিভিন্ন হাঁট-বাজার, বাসস্ট্যান্ড ও মোড়ে মোড়ে মৌসুমি ফল বিক্রেতারা কচি তাল কেটে শাঁস বিক্রি করছেন।

উপকূল এলাকায় প্রচণ্ড তাপদাহে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের জীবনযাপন। তাল শাস দেহকে রাখে ক্লান্তিহীন। আর এই জ্যৈষ্ঠ মাসের তীব্র গরমে তাল শাঁসের চাহিদা বেড়েছে। প্রতিদিন পাইকগাছার গ্রামের হাট বাজারে প্রচুর পরিমাণে তাল বিক্রি হচ্ছে। গ্রাম অঞ্চল থেকে তাল জেলা শহর ও রাজধানী ঢাকা শহরে সরবরাহ হচ্ছে। পাইকগাছা থেকে প্রতি সপ্তাহে ২/৩ ট্রাক তাল ঢাকা শহরে সরবরাহ হচ্ছে। এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা তাল কিনে ঢাকা কারওয়ান বাজারে পাইকারী বিক্রয় করছে। তালের শাঁস পানি শূন্যতা দূর করে। দেহকে রাখে ক্লান্তিহীন। খাবারে রুচি বাড়িয়ে দেয়। তাল শাঁসে থাকা উপকারী উপাদান লিভার সমস্যা ও রক্ত শূন্যতা দূরিকরণে দারুণ ভূমিকা রাখে। এতে থাকা ভিটামিন এ দৃষ্টি শক্তি উন্নতি করে। তাল শাঁস বমিভাব আর বিস্বাদ দূর করতে ভূমিকা রাখে। তাল শাঁস জেলীর মত হওয়ায় খেতে খুব মুখরোচক এবং শিশুদের কাছে খুব প্রিয়। পাঁকা তালের মজা বের করে রান্না করে খাওয়া যায়। তালের বড়া, হালুয়া সহ নানা ধরনর খাবার তৈরী করা যায়। তাছাড়া তালের আটি কেঁটে আটির ভীতর থেকে সাদা রঙ্গের শাঁস বের করে খাওয়া যায়। যা খেতে খুব সুস্বাধু। চলতি মৌসুমে পাইকগাছা অঞ্চলে তালের ফলন ভালো হয়নি। বৈরি আবহাওয়া আর অনাবৃষ্টির কারণে ফলন কম হয়েছে। ছোট-বড় কাঁদি হিসাবে ১০/৪০ টি পর্যন্ত তাল একটি কাঁদিতে ধরেছে। এ এলাকায় দুই রকম তালের জাত দেখা যায়। একটি কালছে রঙ্গের আর একটি ধুষর হলদে বর্ণের। স্থানীয় বাজারে এক একটি তাল তিন থেকে পাঁচ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। একটি তালে দুই থেকে চারটে আটি হয়। প্রতিটি আটির ভিতরে শাঁস। তাল ছোট-বড় হিসাবে বিভিন্ন দামে বিক্রয় হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাল গাছের মালিকের কাছ থেকে গাছ চুক্তি ৪শত থেকে ১২শত টাকায় তাল ক্রয় করছে। উপজেলার সিলেমানপুর গ্রামের তাল ব্যাবসায়ী মুজিবুর রহমান জানান, প্রতিদিন তিনি ফেরি করে ২ থেকে ৩ হাজার টাকার তাল বিক্রি করেন। একটি তাল ৫ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি করছেন। ভ্যানে করে স্থানীয় বাজারসহ পাইকগাছা বাজারে তাল বিক্রি করেন। গ

রম বেশী থাকায় প্রচুর পরিমাণে তাল বিক্রি হচ্ছে বলে তিনি জানান। ‎স্থানীয় ব্যবসায়ী রজব আলী জোয়ার্দ্দার ও ফারুক গাজী বলেন, হাঁট বাজারে বিভিন্ন সাইজের তাল খুচরা বিক্রয় করা হচ্ছে। বড় সাইজের তাল গুলো অধিক দামে বিক্রয়ের জন্য ঢাকা শহরে পাঠানো হয়। পাইকগাছার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতি সপ্তাহে ২ থেকে ৩ ট্রাক তাল ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। স্থানীয় ফল ব্যবসায়ী আব্দুর সাত্তার জানান, বড় গাছের পরিমাণ কমে গেছে। তাছাড়া এ বছর অনাবৃষ্টির কারণে তালের ফলন কম হয়েছে। তাল গাছ ক্ষেতের আইলে, বাগান ও অনাবাদী জায়গায় অবহেলা ও অনাদরে বেড়ে ওঠে। তাল গাছ মানুষের এতো উপকারে আসার পরও প্রতি বছর এলাকা থেকে শত শত তাল গাছ কেঁটে ফেলা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ একরামুল হেসেন জানান, প্রতি বছর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার তালের আটি রোপন করা হচ্ছে। তাল গাছ মানুষের উপকারী বন্ধু। বজ্রপাত রোধসহ তাল গাছ প্রাকৃতিক ঝড় ও ভূমি ক্ষয়ে রোধ করে। তাই কৃষক ও এলাকাবাসীকে তাল গাছ না কেঁটে আরো গাছ লাগানোর জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

Facebook
Twitter
LinkedIn

সর্বশেষ খবর

turan hossain rana