সর্বশেষ:

নিঃস্বতার আগুনে জ্বলছে পাইকগাছা/ কোথায় আশ্রয় আবু ছিদ্দিকের?

Facebook
Twitter
LinkedIn

আলাউদ্দিন সোহাগ,পাইকগাছা (খুলনা)

আকাশ যেন থমকে দাঁড়িয়েছে, বাতাস হয়ে উঠেছে ভারী। খুলনার পাইকগাছা উপজেলার মাটি আজ এক অসহায় পরিবারের আর্তনাদে কেঁপে উঠছে। আগুনের লেলিহান শিখা কেবল একটি ঘর পোড়ায়নি/ পুড়িয়ে দিয়েছে এক বাকপ্রতিবন্ধী মানুষের বেঁচে থাকার শেষ সম্বল, নিরাপত্তা আর স্বপ্ন।মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের উত্তর গড়ের আবাদ গ্রামে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। স্থানীয়দের ধারণা, বৈদ্যুতিক মিটারের পাশের নষ্ট তার থেকে সৃষ্ট শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের গ্রাস থেকে রক্ষা পায়নি বাকপ্রতিবন্ধী আবু ছিদ্দিক সরদারের বসতঘরটি।

জীবিকার তাগিদে ছিদ্দিক সরদার তখন বাড়ির বাইরে ছিলেন। তিনি জানতেনও না যে, ফিরে আসার মতো ঘরটি আর অবশিষ্ট নেই। ঘরের ভেতর থাকা আসবাবপত্র, পোশাক ও খাদ্যসামগ্রীসহ লক্ষাধিক টাকার সম্পদ কয়েক মিনিটের মধ্যে ছাই হয়ে গেছে। ছিদ্দিকের স্ত্রী কাকুলী বেগম ও সন্তানদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। ছোট ছেলে বাজিদ যখন “মা, আগুন!” বলে চিৎকার করছিল, সেই আতঙ্কিত কণ্ঠ প্রতিবেশীদের হৃদয়ে আজও দগদগে ক্ষত হয়ে আছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রসিদ সরদার বলেন, “ছিদ্দিক খুব গরিব মানুষ। অনেক কষ্টে এই ঘরটা তুলেছিল। এখন তার পক্ষে আবার নতুন ঘর বানানো অসম্ভব।” এলাকাবাসী প্রাণপণ চেষ্টা করেও আগুন নেভাতে পারেননি। কারণ, চোখের সামনে সবকিছু পুড়ে যাওয়া দেখা ছাড়া তাদের আর কিছু করার ছিল না।আর কত ধ্বংস হলে আসবে ফায়ার স্টেশন? এই অগ্নিকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়,এটি পাইকগাছার এক চলমান সংকটের প্রতিচ্ছবি। এই জনপদে বারবার আগুন লাগে, মানুষ নিঃস্ব হয়, কিন্তু আজ পর্যন্ত এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ ফায়ার স্টেশন গড়ে ওঠেনি।

• আর কত ঘরবাড়ি পুড়লে প্রশাসনের টনক নড়বে?
• একটি ফায়ার স্টেশন কি এখানে বিলাসিতা, নাকি সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার?
• কতটা ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়ালে জাগবে নীতিনির্ধারকদের বিবেক?
আজ ছিদ্দিকের ঘর পুড়েছে, কাল হয়তো অন্য কারো। যদি এখনই কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ফায়ার স্টেশন স্থাপন করা না হয়, তবে এই আগুন শুধু ঘরবাড়ি নয়, পুড়িয়ে দেবে পুরো জনপদের আস্থা ও মানবতা। প্রশাসন কি এবার নিরব দর্শকের ভূমিকা ছেড়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেবে?
আবু ছিদ্দিক ও তার সন্তানদের এখন খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হচ্ছে। এই অসহায় পরিবারটি এখন সরকার ও বিত্তবানদের সাহায্যের অপেক্ষায়।

Facebook
Twitter
LinkedIn

সর্বশেষ খবর

turan hossain rana