সর্বশেষ:

বটিয়াঘাটায় বিআরডিবি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত শুরু: সার্টিফিকেট মামলার প্রস্তুতি চলছে

Facebook
Twitter
LinkedIn

শেখ শামীম, বটিয়াঘাটা খুলনা :

খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলা বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) অফিসের এক প্রকল্প পরিচালক ও এক মাঠকর্মী শারমিন আক্তার সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, অর্থ লুটপাট, সদস্য ভর্তি নিয়ে অনিয়ম এবং স্বজনপ্রীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সদস্যদের মাঝে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ সূত্রে ও বিভিন্ন ভুক্তভোগীর সাথে কথা বলে জানা যায়,বটিয়াঘাটা বিআরডিবি অফিসের প্রকল্প পরিচালক মো. সুফিয়ান ও মাঠকর্মী শারমিন আক্তারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাঠ পর্যায়ে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ দকরে সমবায় সমিতিতে সদস্য ভর্তি,ঋণ প্রদানের আশ্বাস দিয়ে অর্থ আদায় এবং সদস্যদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন অনেকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, শুধু মাঠ পর্যায়েই নয়, অফিসের অভ্যন্তরেও তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা সমালোচনা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা অফিসের পরিবেশ নষ্ট করছেন এবং দায়িত্ব পালনে অনিয়ম করছেন। এছাড়া মাঠকর্মী শারমিন আক্তার আগে ডুমুরিয়া উপজেলায় কর্মরত থাকাকালেও তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। পরবর্তীতে এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে বটিয়াঘাটায় বদলি করা হয় বলে জানা যায়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সুফিয়ান বিভিন্ন গ্রাম এলাকায় গিয়ে বিআরডিবি সদস্যদের পাস বই ব্যবহার করে সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি নামে সদস্য ভর্তি করান। পরে বিআরডিবি থেকে ঋণ দেওয়ার কথা বলে সদস্যদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। ভুক্তভোগী সদস্য তৃপ্তি পাল ও অমিতা মণ্ডলসহ একাধিক সদস্য জানান, ২০২৩ সালে তারা বিআরডিবি সমিতিতে সদস্য হয়। কিন্তু ঋণের জন্য আবেদন করলেও বিভিন্ন অজুহাতে তাদের ঘুরানো হচ্ছে। ভুক্তভোগী এক সদস্য মাধুরী মন্ডল বলেন, শারমিন আমার কাছ থেকে ভর্তি বাবদ বেশ কিছু টাকা নিয়েছে লোন দেওয়ার কথা বলে। কিন্তু লোন চাইলে আজ না কাল বলে ঘুরাতে থাকে।

এমনকি সঞ্চয়ের টাকা ফেরত চাইলে নানা তালবাহানা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজন সদস্য বলেন, ঋণ দেওয়ার কথা বলে মাঠকর্মী শারমিন আক্তারের সহযোগিতায় সুফিয়ান তাদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ (ট্রেনিং) বাবদ আগাম টাকা নিয়েছেন। তাদের বলা হয়েছিল, প্রশিক্ষণ শেষে দ্রুত ঋণ দেওয়া হবে। কিন্তু দীর্ঘদিন পার হলেও তারা কোনো ঋণ পাননি। এ বিষয়ে মাঠকর্মী শারমিন আক্তারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। সদস্য ভর্তি সংক্রান্ত সব বিষয়ে অফিসের ম্যাডামের অনুমতি নিতে হয়। তার অনুমতি ছাড়া কোনো সদস্য ভর্তি করা সম্ভব নয়। সুফিয়ানের সঙ্গে তার পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। অন্যদিকে সহকারী প্রকল্প পরিচালক মো. সুফিয়ান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। শারমিনের সঙ্গে আমার কোনো ব্যক্তিগত ও প্রেমের সম্পর্ক নেই। বটিয়াঘাটা উপজেলা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা সুলতানা নাছরীন জানান, মাঠকর্মী শারমিন আক্তার ও প্রকল্প পরিচালক মো. সুফিয়ানের বিরুদ্ধে জেলা ও কেন্দ্রীয় অফিসে ডিডি বরাবর একাধিকবার লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন, মাঠ পর্যায় থেকে তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ আসছে। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। তিনি আরো বলেন,শারমিন সুলতানা, শিফালী মন্ডল, সরবানী গোলদার, সুলেখা বৈরাগী, এআরডি আবু সুফিয়ান সহ তার স্ত্রী কবরী জাহান এর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট মামলার প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে সকল কর্মীদের বেতন বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি বিস্তারিত জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে আপনারা যোগাযোগ করেন। এ বিষয়ে বিআরডিবি খুলনা জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (ডিডি) মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, সুফিয়ান ও শারমিন আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থান্দার কামরুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্য তদন্ত শুরু হয়েছে ও সার্টিফিকেট মামলার প্রস্তুতি চলমান। অতি দ্রুত তাদের আইনের আওতায়নে বিচার কার্য সম্পন্ন করা হবে। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

Facebook
Twitter
LinkedIn

সর্বশেষ খবর

turan hossain rana