সর্বশেষ:

শিশুকে দিয়ে প্রতিবেশীর সঞ্চয়ের টাকা হাতানোর অভিযোগ; বিতর্কিত হাসিবকে ঘিরে এলাকায় তোলপাড়

Facebook
Twitter
LinkedIn

শেখ শামীম হোসেন, বটিয়াঘাটাঃ

খুলনার একটি গ্রামে প্রতিবেশীর ঘরে রাখা সঞ্চয়ের পাত্র থেকে টাকা আনতে পাঁচ বছরের এক শিশুকে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ কৌশল অবশেষে ফাঁস হয়ে যায় শিশুটির স্বীকারোক্তিতে। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে আংশিক টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খুলনার সুন্দরমহল গ্রামের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হাসিব বিশ্বাসের স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী মইনুদ্দিন গাজীর পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশা করতেন। অভিযোগ রয়েছে, এই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে তিনি মইনুদ্দিন গাজীর প্রায় পাঁচ বছর বয়সী মেয়েকে বিভিন্ন সময় মিষ্টি ও নানা প্রলোভন দেখিয়ে তার মায়ের সঞ্চয়ের পাত্র থেকে টাকা এনে দিতে বলতেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হাঁসের খামার থেকে পাওয়া বিক্রির টাকা তারা ঘরের একটি পাত্রে জমা করে রাখতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, শিশুটি বিভিন্ন সময় ১০০০, ৫০০, ২০০ ও ১০০ টাকার নোট এনে হাসিবের স্ত্রীর দোকানে খরচ করত। শুধু মিষ্টি খাওয়াই নয়, ওই টাকার একটি অংশ দিয়ে দোকানের জন্য মুদি মালামালও কেনা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এভাবে ধীরে ধীরে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে বলে দাবি পরিবারের।

ঘটনার মোড় ঘুরে যায় যখন শিশুটি একদিন পুরো বিষয়টি তার পরিবারের কাছে খুলে বলে। এরপরই বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।সালিশ বৈঠকে হাসিবের স্ত্রী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে আনুমানিক ৫ হাজার টাকা ফেরত দেন এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ আর করবেন না বলে সকলের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

এদিকে এলাকাবাসীর মধ্যে আরও নানা অভিযোগ ঘুরে বেড়াচ্ছে হাসিব বিশ্বাসকে ঘিরে। স্থানীয়দের দাবি, হাসিব বিশ্বাস বিভিন্ন স্থানে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে থাকেন। এমনকি একটি নিবন্ধনবিহীন অনলাইন নিউজ পোর্টালের পরিচয়ধারী এক কথিত সাংবাদিকের কাছ থেকে সাংবাদিক পরিচয়পত্র সংগ্রহের জন্য তিনি তদবিরও করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ওই কথিত পত্রিকার পক্ষ থেকে পরিচয়পত্র দেওয়ার বিনিময়ে প্রায় ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল।

এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, হাসিব বিশ্বাস স্থানীয় একটি মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গেও জড়িত। এ ধরনের নানা অভিযোগ ঘিরে এলাকায় তাকে নিয়ে উদ্বেগ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এমন কর্মকাণ্ড সমাজের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে হাসিব বিশ্বাসের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজর দেওয়া প্রয়োজন।

Facebook
Twitter
LinkedIn

সর্বশেষ খবর

turan hossain rana