সর্বশেষ:

বটিয়াঘাটায় এলজিইডি’র ১৭ লাখ টাকার সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ: কাজের মান অত্যন্ত দুর্বল ও দায়সারা

Facebook
Twitter
LinkedIn

নিজস্ব প্রতিবেদক :

খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের দাবি, এলজিইডি অফিসের তত্ত্বাবধানে প্রায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকার সংসার কাজ হলেও বাস্তবে কাজের মান অত্যন্ত দুর্বল ও দায়সারা। কাজটি করছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এস কে ব্রাদার এর প্রোপাইটার আব্দুল আহাদ। তবে কাজটির সাইডে তিনি না আসলেও দেখাশোনা করছেন ফাকু নামে এক ব্যক্তি। সরেজমিনে গিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সুরখালি ইউনিয়নের ৩টি স্কুল বুনারাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (সাইক্লোন), দক্ষিণ কল্যানশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উত্তর কল্যাণশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পুরাতন ভবনের ভাঙাচোরা ও ফাটল অংশ সামান্য ঘষামাজা করে বালু সিমেন্ট দিয়ে ডেকে রং করা হচ্ছে।

বাইরে থেকে ভবনগুলো নতুন মনে হলেও ভেতরের অবস্থা নাজুক বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত বাথরুমের ছাদে বড় ধরনের ফাটল দেখা গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যেই কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এসব বাথরুম ব্যবহার করছে। অভিযোগ রয়েছে, ফাটল মেরামত না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দেয়াল গুলো সামান্য ঘুষামাজা করে শুধুমাত্র বালু সিমেন্টের প্রলেপ দিয়ে কাজ শেষ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এ যেন কাজের নামে শুভঙ্করের ফাঁকি। কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের মতো দেখালেও বাস্তবে কাজের মান খুবই নিম্নমানের। এভাবে চলতে থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই ভবনগুলো আবার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে। এ বিষয়ে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ ও কাজের মান যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মিস্ত্রি বলেন, ভাই আমরা তো টাকার বিনিময়ে কাজ করতে এসেছি এখানে। ঠিকাদারের কাজে যে এত অনিয়ম বা সরকারি প্রতিষ্ঠান যে বরাদ্দ দিয়েছে তার অর্ধেক টাকার কাজও এই কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে না। ইট বালু সিমেন্ট বা সামগ্রী মালামাল যা কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে তার সন্তোষজনক নয়। আমাদের মনে হয় এ কাজ না করাই ভালো। খামাখা সরকারের অনেকগুলো টাকা নষ্ট হচ্ছে অথচ প্রতিষ্ঠান সংস্কারের তেমন কোন উন্নয়ন হচ্ছে না। কাজের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ বিভিন্ন সহকারী শিক্ষকরা বলেন, আমাদের বলার কিছু নেই।

যে টাকার বরাদ্দ করে দেয়া হয়েছে তার অর্ধেক টাকার সংস্কারের কাজ হলেও মনে হয় স্কুলটা নতুন করে করা সম্ভব হতো। দেশের পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে এখন আর সত্য কথা বলার সুযোগ নেই বলে দাবি করেন তারা। তারা কাজটি পুনরায় তদন্ত করে সংস্কারের জোর দাবি জানান কর্তৃপক্ষ নিকট। এ বিষয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলো কাজের বিষয়ে কথা বলতে রাজি নয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য সুজিত কুমার বলেন, ভাই বলার আর ভাষা নেই। কিছু বললেই সমস্যা। তাই কিছু বলতে চাচ্ছি না। আপনারা সরেজমিন এসেছেন, দেখেন কাজটি কত নিম্নমানের।

উপজেলা প্রকৌশলী গৌতম কুমার মন্ডল বলেন, ভবনের প্রয়োজন এর তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় এবং বরাদ্দের মধ্যেই প্রাককলন সম্পন্ন করার নির্দেশ থাকায়, এই পুরাতন জোড়া চিহ্ন ভবন গুলোর সম্পূর্ণ প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে প্রাক্কলন সম্ভব হয়নি। তবে প্রাক্কলনে যতটুকু কাজ আছে তার থেকে কোন কাজ কম করার কোন সুযোগ নাই। কাজটি চলমান আছে। কাজে কোন ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে তা অবশ্যই সংশোধনপূর্বক হস্তান্তর করা হবে। অন্যথায় এই কাজের কোন বিল প্রদান করা হবে না।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থান্দার কামরুজ্জামান বলেন, উল্লিখিত কাজসমুহ চলমান। এখনো কোন বিল দেয়া হয় নাই। ডিটেইলস এস্টিমেট অনুযায়ী কাজ বুঝে নিয়ে বিল দেয়া হবে।

Facebook
Twitter
LinkedIn

সর্বশেষ খবর

turan hossain rana