সর্বশেষ:

chaurman prarthi niye cholche trinomul hiseb

পাইকগাছা উপজেলার ৭ নং গদাইপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী নিয়ে চলছে তৃণমূলের হিসাব – নিকাশ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, পারিবারিক ঐতিহ্য ও জনসম্পৃক্ততায় আলোচনার কেন্দ্রে মোঃ কায়ুম হোসেন

chaurman prarthi niye cholche trinomul hiseb
Facebook
Twitter
LinkedIn

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার ৭ নং গদাইপুর ইউনিয়নে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই ইউনিয়নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে চেয়ারম্যান পদে কে দলীয় সমর্থন পাবেন— তা নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মী, সাধারণ ভোটার, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিভিন্ন সামাজিক মহলে চলছে ব্যাপক আলোচনা। ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে, স্থানীয় ভোটারদের মতামত নিয়ে এবং তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন মোঃ কায়ুম হোসেন।

স্থানীয়দের মতে, শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে নয়; বরং ব্যক্তিগত সততা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য, সামাজিক যোগাযোগ ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে তিনি ধীরে ধীরে তৃণমূলের আস্থার জায়গা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের পাশাপাশি প্রবীণ ও মধ্যবয়সী ভোটারদের মধ্যেও তার গ্রহণযোগ্যতা লক্ষনীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন কেবল দলীয় পরিচয়ের নির্বাচন নয়; এখানে ব্যক্তির সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, পারিবারিক ঐতিহ্য, সাংগঠনিক দক্ষতা ও মানুষের পাশে থাকার মানসিকতা বড় ভূমিকা রাখে। এ দিক থেকে মোঃ কায়ুম হোসেনকে অনেকেই ‘সম্ভাবনাময় রাজনৈতিক মুখ’ হিসেবে দেখছেন।

জানা গেছে, মোঃ কায়ুম হোসেন একজন গ্র্যাজুয়েট এবং ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ দীর্ঘদিনের। দলের দুঃসময়ে মাঠে থাকা, নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার কারণে তিনি তৃণমূলের কাছে ধীরে ধীরে একটি পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য মুখে পরিণত হয়েছেন বলে স্থানীয়দের অভিমত। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মতে, তার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য। তার পিতা ছিলেন ৭ নং গদাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের একজন সম্মানিত মেম্বার এবং গদাইপুর ইউনিয়ন বিএনপির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক। এলাকায় একজন সৎ, নির্লোভ ও জনবান্ধব রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তার পরিচিতি ছিল ব্যাপক। প্রবীণ ভোটারদের অনেকেই জানান, “তার পিতার রাজনৈতিক আদর্শ, সাধারণ মানুষের প্রতি আন্তরিকতা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি দায়িত্ববোধ আজও মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।” থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক শাহিনুর রহমান বলেন “গদাইপুর ইউনিয়নের রাজনীতিতে এমন পরিবার খুব কম আছে যারা দীর্ঘদিন ধরে মানুষের পাশে থেকেছে। কায়ুম হোসেন সেই রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারক। তার মধ্যে আমরা একজন শিক্ষিত, ভদ্র ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের সম্ভাবনা দেখি।”

তৃণমূল বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বর্তমানে ইউনিয়নে সম্ভাব্য বেশ কয়েকজন প্রার্থী থাকলেও সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতা ও ব্যক্তিগত ইমেজের বিবেচনায় মোঃ কায়ুম হোসেন এগিয়ে রয়েছেন। তাদের দাবি, তিনি কোনো বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন এবং রাজনৈতিকভাবে ধৈর্যশীল ও পরিমিত আচরণের কারণে দলীয় হাইকমান্ডের কাছেও ইতিবাচক মূল্যায়ন পেতে পারেন। স্থানীয় যুবসমাজের একটি বড় অংশ মনে করছে, বর্তমান সময়ের রাজনীতিতে শিক্ষিত ও আধুনিক চিন্তাধারার নেতৃত্ব প্রয়োজন। সে জায়গা থেকে মোঃ কায়ুম হোসেনের মতো একজন গ্র্যাজুয়েট ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন ব্যক্তিত্ব ইউনিয়নের উন্নয়ন ও সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তরুণ ভোটারদের অনেকে বলেন, “আমরা এমন একজন চেয়ারম্যান চাই যিনি শুধু নির্বাচনের সময় নয়, সবসময় মানুষের পাশে থাকবেন এবং ইউনিয়নের উন্নয়ন নিয়ে বাস্তব চিন্তা করবেন।”
এদিকে ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজার, চায়ের দোকান, সামাজিক অনুষ্ঠান ও রাজনৈতিক আড্ডায় এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী নিয়ে হিসাব-নিকাশ। অনেকেই মনে করছেন, বিএনপি যদি আগামী নির্বাচনে একটি শক্তিশালী, গ্রহণযোগ্য ও জনসম্পৃক্ত প্রার্থী দিতে চায়, তাহলে মোঃ কায়ুম হোসেন গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় থাকবেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইউনিয়ন পর্যায়ে একজন প্রার্থীর জনপ্রিয়তা নির্ধারণে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ দিক থেকে মোঃ কায়ুম হোসেনের অবস্থান বর্তমানে বেশ শক্তিশালী বলে মনে করছেন তারা। বিশেষ করে স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও মানবিক কর্মকাণ্ডে তার উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মাঝে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করেছে। “বর্তমান রাজনীতিতে মানুষ শুধু স্লোগান নয়, আচরণ ও বাস্তব কাজ দেখতে চায়। কায়ুম হোসেনের মধ্যে নেতৃত্বের যে ধৈর্য ও সামাজিক সম্পৃক্ততা দেখা যাচ্ছে, তা তাকে অন্যদের তুলনায় আলাদা অবস্থানে নিয়ে গেছে।” অন্যদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেকেই মনে করছেন, ইউনিয়নের সাধারণ ভোটারদের মনোভাব এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামতকে গুরুত্ব দিলে বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্তেও তার নাম গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হতে পারে। কারণ স্থানীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে তেমন কোনো নেতিবাচক আলোচনা না থাকলেও ইতিবাচক আলোচনা ক্রমশ বাড়ছে। তবে এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি। দলীয় মনোনয়ন নিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে নীরব প্রতিযোগিতা চললেও স্থানীয় জনমত জরিপে মোঃ কায়ুম হোসেনের নামই বেশি উচ্চারিত হচ্ছে বলে দাবি করছেন অনেক তৃণমূল নেতাকর্মী।

রাজনৈতিক সচেতন মহলের ধারণা, গদাইপুর ইউনিয়নে আগামী নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন যার হাতে যাবে, তার পেছনে তৃণমূলের সমর্থন, সাংগঠনিক সক্রিয়তা ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আর এসব দিক বিবেচনায় বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মোঃ কায়ুম হোসেন।

Facebook
Twitter
LinkedIn

সর্বশেষ খবর

turan hossain rana