সর্বশেষ:

পাইকগাছায় বিটিসিএল ক্যাবল কাণ্ডে তদন্ত থমকে, রহস্য ঘনীভূত

Facebook
Twitter
LinkedIn

পাইকগাছা ( খুলনা ) প্রতিনিধি

খুলনার পাইকগাছায় সড়ক সংস্কারের আড়ালে সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)-এর আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল অপসারণ নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্কে তদন্ত কার্যক্রম কার্যত থমকে আছে। বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশের পরও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় ঘটনাটি এখন আরও বেশি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে।প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়কজুড়ে উত্তোলন করা ক্যাবলের আনুমানিক মূল্য ১০ লাখ টাকা হলেও এখনো পর্যন্ত নেই কোনো গ্রহণ-বিবরণী, নেই স্টোর রেজিস্টারের নির্ভরযোগ্য এন্ট্রি, নেই স্ক্র্যাপ হিসেবে নিলাম সংক্রান্ত দলিল। এমনকি উত্তোলিত ক্যাবলের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ বা মান সম্পর্কেও কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এতে প্রশ্ন উঠছে—সরকারি সম্পদ আদৌ সংরক্ষিত আছে, নাকি কাগজে-কলমেই গায়েব হয়ে গেছে?

দায়িত্বপ্রাপ্ত টেকনিশিয়ান মোখলেছুর রহমান দাবি করে আসছেন, উত্তোলিত ক্যাবল স্টোরে রয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট লাইনম্যান আলেক গাজী এখনও এ বিষয়ে কথা বলতে অনিচ্ছুক, যা পুরো ঘটনাকে আরও রহস্যময় করে তুলছে।বিটিসিএলের খুলনা অঞ্চলের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. বেঞ্জুর রহমান জানিয়েছেন, উত্তোলিত ক্যাবল যথাযথভাবে নথিভুক্ত ও সংরক্ষণ করার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেই নির্দেশনার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। প্রয়োজনীয় নথির অনুপস্থিতি মাঠপর্যায়ের ব্যবস্থাপনা ও দাপ্তরিক নিয়মের মধ্যে স্পষ্ট অসামঞ্জস্য তুলে ধরছে।
এদিকে তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা ও দৃশ্যমান অগ্রগতির অভাবে স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভ বাড়ছে। এখনো গঠন হয়নি কোনো কার্যকর তদন্ত কমিটি, হয়নি নিরপেক্ষ অডিটের উদ্যোগ। ফলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন, ঘটনাটি ধীরে ধীরে ধামাচাপা পড়ে যেতে পারে।

এ অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রশ্ন এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে—উত্তোলিত ক্যাবলের প্রকৃত পরিমাণ কত, কার অনুমোদনে তা অপসারণ করা হয়েছে, স্টোরে সংরক্ষণের প্রমাণ কোথায়, এবং স্ক্র্যাপ হলে নিলাম প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি কেন।সুশাসন ও স্বচ্ছতার স্বার্থে এখন দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, পূর্ণাঙ্গ অডিট এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, এই ঘটনায় আদৌ জবাবদিহি নিশ্চিত হয় কিনা, নাকি ১০ লাখ টাকার সরকারি সম্পদের হিসাব অন্ধকারেই থেকে যায়।

Facebook
Twitter
LinkedIn

সর্বশেষ খবর

turan hossain rana