
নিজস্ব প্রতিবেদক, মোংলা :
বন্দর নগরী মোংলায় বহুল আলোচিত “মাসুদ বাহিনী”কে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মোংলা বন্দর ও আশপাশ এলাকায় গড়ে ওঠা মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম নিয়ন্ত্রক রেজা মাসুদ (৩৭) ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী মরহুম জিল্লুর রহমানের ছেলে রেজা মাসুদ ছোটবেলা থেকেই বেপরোয়া স্বভাবের ছিলেন। মাদক সেবন ও বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগে একপর্যায়ে পরিবার থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন তিনি। পরে মোংলা ছেড়ে চট্টগ্রামে অবস্থান নেন। সেখানে কিছুদিন থাকার পর পুনরায় মোংলায় ফিরে এসে নতুন করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, চট্টগ্রামে অবস্থানকালে মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তৈরি হয়। সেই সূত্র ধরে মোংলায় ফিরে তিনি একটি সংঘবদ্ধ বাহিনী গড়ে তোলেন এবং ইয়াবা ব্যবসার বিস্তৃত নেটওয়ার্ক তৈরি করেন। স্থানীয়দের দাবি, বর্তমানে মোংলা শহরের একাধিক ইয়াবা স্পট তার নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে।
বিশ্বস্ত একাধিক সূত্র জানায়, শহরের পুরাতন শ্রমিক কলোনী এলাকা, কুমারখালী ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা, মাছমারা, মালগাজী, চটেরহাট বাজার, বাঁশতলা, উত্তর চাঁদপাই, কানাইনগর ও সিগনাল টাওয়ার এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে তাদের সক্রিয় মাদক সিন্ডিকেট রয়েছে। এসব স্পট থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ইয়াবা পাইকারি বিক্রি হয়ে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ বাহিনীর বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললেই তাকে নানা উপায়ে হেনস্তার শিকার হতে হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেক আইডি ব্যবহার করে কুৎসা রটানো, কাটপিস ও এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ছবি ও পোস্ট ছড়িয়ে প্রতিপক্ষকে সামাজিকভাবে হেয় করার অভিযোগও উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। এছাড়া ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। একাধিক সূত্র দাবি করেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপত্তিকর ছবি বা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এই চক্র ইতোমধ্যে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্যের সঙ্গে বাহিনীর সখ্যতা থাকায় তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।















