সর্বশেষ:

আদর্শের পথে অটল, সংগ্রামের পথে নির্ভীক: পার্থ দেব মন্ডলকে জন্মদিনের আন্তরিক শুভেচ্ছা

Facebook
Twitter
LinkedIn

সম্পাদকীয় :

খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার সুরখালী ইউনিয়নের সুকদাড়া গ্রামের এক সৎ, ধর্মীয় ও মূল্যবোধ সম্পন্ন হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন পার্থ দেব মন্ডল। গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা এই কৃতি সন্তান শৈশব থেকেই ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী, অধ্যবসায়ী এবং নেতৃত্ব গুণে উজ্জ্বল। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি তার গভীর আগ্রহ ছিল এবং পাশাপাশি সমাজ ও দেশের বিভিন্ন বিষয়ে তার সচেতনতা ছিল লক্ষণীয়। সহপাঠী, শিক্ষক এবং এলাকার মানুষের কাছে তিনি ছিলেন ভদ্র, বিনয়ী, দায়িত্বশীল এবং সহমর্মী একজন তরুণ।
কৈশোর বয়সেই তার হৃদয়ে স্থান করে নেয় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ। সেই সময় থেকেই তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র জাতীয়তাবাদী দর্শন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম এবং দেশপ্রেমের রাজনীতির প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট হন। ধীরে ধীরে এই আদর্শই তার জীবনের পথচলার দিশা হয়ে ওঠে।

স্কুল জীবনের গণ্ডি পেরিয়ে কলেজে উঠার পর তার রাজনৈতিক সচেতনতা আরও দৃঢ় হয়। পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ভর্তি হন প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। দেশের এই সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের সবুজ চত্বরে এসে তিনি ছাত্র রাজনীতির কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে নিজেকে গড়ে তোলেন একজন সংগঠক ও আদর্শবাদী কর্মী হিসেবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন সময়েই তিনি পরিচিত হন খুলনার কৃতি সন্তান ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী সংগঠক, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সভাপতি আজিজুল বারী হেলাল এর সাথে। একই সময়ে খুলনার আরেক কৃতি সন্তান, বিএনপির ত্যাগী, পরীক্ষিত ও প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় নেতা, সাবেক ছাত্রনেতা এবং কর্মীবান্ধব সংগঠক রকিবুল ইসলাম বকুল এর সান্নিধ্যও লাভ করেন তিনি।

এই দুই অভিজ্ঞ নেতার সাথে পরিচয় তার রাজনৈতিক জীবনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। তাদের দিক নির্দেশনা ও সান্নিধ্যে থেকে তিনি সংগঠন পরিচালনার কৌশল, রাজনৈতিক ধৈর্য, ত্যাগ, শৃঙ্খলা এবং নেতৃত্বের বাস্তব শিক্ষা লাভ করেন। ছাত্র রাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতির পথে এগিয়ে যাওয়ার যে কঠিন ও সংগ্রামী পথ, তা তাদের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হন।

বিশেষ করে দলের সংকট কালীন সময়ে কীভাবে ধৈর্য, সাহস এবং আদর্শকে ধারণ করে রাজপথে টিকে থাকতে হয়, সে শিক্ষা তিনি পেয়েছেন তাদের কাছ থেকেই। বলা যায়, আজিজুল বারী হেলাল ও রকিবুল ইসলাম বকুল এর সান্নিধ্য তার রাজনৈতিক জীবনের গতি ও পরিণতিতে এক বিশাল প্রাপ্তি এবং দৃঢ় ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।

পার্থ দেব মন্ডল খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ছাত্র রাজনীতিতে নিজের মেধা, প্রখর সাংগঠনিক দক্ষতা, দূরদর্শী চিন্তাশক্তি এবং ত্যাগের মাধ্যমে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেন। দলের প্রয়োজনে যেকোনো দায়িত্ব পালন করা, দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দৃঢ়তা দেখানো এবং আন্দোলন সংগ্রামে সাহসী ভূমিকা রাখার ক্ষেত্রে তিনি সবসময় ছিলেন সম্মুখ সারির একজন যোদ্ধা।

ঢাকার রাজপথে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে তার উপস্থিতি ছিল দৃপ্ত ও সাহসী। মিছিল-মিটিং-সমাবেশে তিনি ছিলেন অগ্নিস্ফুলিঙ্গের মতো সক্রিয়। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি ছিলেন আপসহীন, দৃঢ়চেতা এবং সংগ্রামী একজন কর্মী। দলের আদর্শ ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি কখনো পিছপা হননি।

তিনি শুধু একজন সংগঠকই নন, তিনি একজন আদর্শিক কর্মী, একজন দক্ষ কৌশলবিদ, একজন দূরদর্শী সংগঠক এবং একজন নিবেদিত প্রাণ জাতীয়তাবাদী সৈনিক। দলের প্রতি তার নিষ্ঠা, সততা, বিনয় এবং সাহসিকতার কারণে তিনি আজ জাতীয়তাবাদী পরিবারের একজন বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন কর্মী হিসেবে পরিচিত।
জাতীয় রাজনীতিতে তিনি পরিচিত একজন ত্যাগী, সাহসী, কর্মীবান্ধব ও দূরদর্শী সংগঠক হিসেবে। অনেকেই তাকে বলেন জাতীয়তাবাদী রাজনীতির এক নির্ভীক প্রহরী, গণতন্ত্রের একজন অকুতোভয় সৈনিক এবং দলের একজন বিশ্বস্ত সিফাহসালার । তিনি বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপি’র চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আদর্শের একজন দৃঢ় অনুসারী ও বিশ্বস্ত কর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে রাজপথের সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন।

রাজনৈতিক জীবনে তার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ ও দায়িত্ব তার সাংগঠনিক দক্ষতারই প্রমাণ বহন করে। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (কেন্দ্রীয় সংসদ) এর সাবেক সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল (কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি) এর সাবেক সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এর সাবেক টিম লিডার (ঢাকা বিভাগ) হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। একইসাথে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (কেন্দ্রীয় সংসদ) এর সাবেক সহ-সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) হিসেবেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ছাত্র রাজনীতিতে তিনি ছিলেন আদর্শ, শৃঙ্খলা এবং সাংগঠনিক শক্তির এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট (কেন্দ্রীয় কমিটি) এর আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই দায়িত্বের মাধ্যমে তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছেন।তিনি নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম (কেন্দ্রীয় কমিটি) এর একজন সম্মানিত সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন এবং সমাজের অসহায় ও নির্যাতিত নারী ও শিশুদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার ভূমিকা রেখে চলেছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে পার্থ দেব মন্ডল একজন অত্যন্ত সৎ, বিনয়ী, উদার মনের মানুষ এবং কর্মীবান্ধব নেতা। ছোট-বড় সকল কর্মীর সাথে তিনি আন্তরিক সম্পর্ক বজায় রাখেন। দলের কর্মীদের প্রতি তার ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ এবং মানবিক আচরণ তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

জাতীয়তাবাদী রাজনীতির এই ত্যাগী, নির্ভীক, আদর্শিক এবং কর্মীবান্ধব নেতার সান্নিধ্যে থাকতে পারা সত্যিই দলের প্রত্যেক কর্মীর জন্য এক বড় সৌভাগ্যের বিষয়।
আজ এই প্রিয় মানুষটির জন্মদিন। জীবনের এই বিশেষ দিনে আমরা তার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং রাজনৈতিক জীবনের আরও সাফল্য কামনা করি।

প্রিয় দাদা, আপনার আদর্শ, আপনার ত্যাগ এবং আপনার সংগ্রামী পথচলা আমাদের জন্য এক অনন্ত অনুপ্রেরণা। আপনি সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন এবং জাতীয়তাবাদী রাজনীতির পতাকাকে আরও উঁচুতে তুলে ধরুন, এই কামনাই রইলো।

শুভ জন্মদিন প্রিয় নেতা, প্রিয় দাদা পার্থ দেব মন্ডল। আপনার জীবন হোক আরও আলোকিত, সংগ্রাম হোক আরও সফল, আর আপনার নেতৃত্বে অনুপ্রাণিত হোক আগামী প্রজন্ম।

-তুরান হোসেন রানা
যুগ্ম-আহবায়ক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল
বটিয়াঘাটা উপজেলা শাখা, খুলনা।

Facebook
Twitter
LinkedIn

সর্বশেষ খবর

turan hossain rana