সর্বশেষ:

তেল-গ্যাসে কৃত্রিম সংকট, বাড়তি দামে বিক্রি; সিন্ডিকেটের কবলে ক্রেতারা

Facebook
Twitter
LinkedIn

আলাউদ্দিন সোহাগ,পাইকগাছা (খুলনা)

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় জ্বালানি তেল ও এলপিজি গ্যাসে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। এতে পৌর সদরসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সাধারণ ক্রেতারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।সরেজমিনে পাইকগাছা উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা তেল বিক্রেতারা সরবরাহ কম থাকার অজুহাত দেখিয়ে গ্রাহকদের সীমিত পরিমাণে তেল দিচ্ছেন। অধিকাংশ দোকানে এক থেকে দুই লিটারের বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। অথচ সেই তেলই প্রতি লিটারে ৪ থেকে ৫ টাকা বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা।

পৌর সদরের বাসিন্দা নাজমুল হুদা বলেন, “আগে যে দামে তেল কিনতাম এখন সেই তেল কিনতে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। দোকানিরা বলছে সরবরাহ কম, তাই দাম বাড়ছে। কিন্তু বাস্তবে মনে হচ্ছে তারা ইচ্ছা করেই দাম বাড়াচ্ছে।”কপিলমুনি এলাকার কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, “কৃষিকাজে সেচ মেশিন চালাতে ডিজেল দরকার হয়। কিন্তু এখন তেল পাওয়া যাচ্ছে কম, আর যে তেল পাওয়া যাচ্ছে তা আগের দামের চেয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এতে আমাদের খরচ বেড়ে গেছে।”

এদিকে এলপিজি গ্যাসের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। অনেক গ্যাস ব্যবসায়ী দোকানে গ্যাসের সিলিন্ডার নেই বলে জানালেও পরিচিত বা নির্দিষ্ট ক্রেতাদের কাছে বাড়তি দামে গ্যাস বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রতি সিলিন্ডারে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট পাইকগাছা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে এবং সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা করছে।

অন্যদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অপারেশন-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, সংশোধিত স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকার আলোকে মার্চ ২০২৬ মাসের জন্য জ্বালানি তেলের খুচরা মূল্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এতে ডিজেল প্রতি লিটার ১০০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ এনামুল হক স্বাক্ষরিত ২৬ ফেব্রুয়ারির ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, মার্চ মাসজুড়ে এই মূল্য কার্যকর থাকবে।

তবে সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও পাইকগাছায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে বাড়তি দামে তেল ও গ্যাস বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, প্রশাসনের নজরদারি দুর্বল হওয়ায় অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছেন। দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বাজার তদারকি জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

Facebook
Twitter
LinkedIn

সর্বশেষ খবর

turan hossain rana