সর্বশেষ:

বটিয়াঘাটায় অধিকাংশ ব্যাংকের সামনে নেই সিসি ক্যামেরা : নিরাপত্তাহীনতায় গ্রাহকরা

Facebook
Twitter
LinkedIn

এইচ এম সাগর (হিরামন) খুলনা :

খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার অধিকাংশ ব্যাংক শাখার সামনে নেই সিসি ক্যামেরা। আর ক্যামেরা না থাকার কারনে ক্রমেই বাড়ছে নিরাপত্তা ঝুঁকি। সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে ব্যাংক ডাকাতি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক ঘটনার বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এসব ব্যাংকের সামনে নজরদারির অভাব গ্রাহকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা জানান, ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের পর বাইরে বের হলেই অপরিচিত বেশ কিছু মানুষের মুখোমুখি হতে হয়। অনেকে সন্দেহজনক ভাবে এগিয়ে এসে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। বলে ব্যাংকে গিয়েছিলেন, ম্যানেজার আছে নাকি, ইত্যাদি। এতে গ্রাহকরা সব সময়ই আতঙ্কে থাকেন। তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, বটিয়াঘাটার বেশিরভাগ ব্যাংক শাখাতেই শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ সিসি ক্যামেরা রয়েছে। কিন্তু প্রবেশদ্বার বা ব্যাংকের সামনের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কোন সিসি ক্যামেরা নেই। যার ফলে ব্যাংকের বাইরে সংঘঠিত ঘটনা রেকর্ড না হওয়ায় অপরাধ দমনে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বললে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বটিয়াঘাটা সোনালী ব্যাংক শাখা ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) তরুন জ্যোতি মন্ডল বলেন, ব্যাংকের সামনে সিসি ক্যামেরা দেওয়া আমাদের দায়িত্বের বাইরে। ব্যাংকের ভেতরের যেখানে দরকার সেখানে আমরা ক্যামেরা দিয়েছি।

বাইরে ক্যামেরা স্থাপন উপজেলা প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয়। অন্যদিকে গ্রাহকরা বলছেন ভিন্ন কথা। ভুক্তভোগী এক গ্রাহক আক্তারুল ইসলাম জানান, শুধু ব্যাংকের ভিতরে ক্যামেরা থাকলেই হবে না। ব্যাংকের সামনেও সিসি ক্যামেরা থাকা ও জরুরি। আমি সম্প্রতি একটি ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে ব্যাংকের সামনে আসলে দুষ্কৃতিদের হামলার শিকার হই। বটিয়াঘাটা রূপালী ব্যাংক শাখা ব্যবস্থাপক অমিতেশ মল্লিক বলেন, ব্যাংকের সামনে ক্যামেরা থাকা খুবই ভালো। এতে করে গ্রাহকদের নিরাপত্তা ঝুঁকি কম হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছু একাধিক গ্রাহকরা বলেন, টাকা উত্তোলনের পর বাইরে বের হলেই আতঙ্কে থাকতে হয় আমাদের। প্রতিনিয়তই আমরা ঝুকির মধ্যে পড়ি। উপজেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ জানেন না বটিয়াঘাটায় কয়টি ব্যাংক রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়,

বটিয়াঘাটা উপজেলায় প্রায় ১০ থেকে ১২ টি ব্যাংক রয়েছে এর মধ্যে আবার এজেন্ট ব্যাংক ও রয়েছে বেশ কিছু। উল্লেখযোগ্য ব্যাংকগুলো হলো, সোনালী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ডাচ বাংলা ব্যাংক, ব্রাক ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, আল আরাফা ইসলামী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক সহ নিত্যনতুন মোবাইল ব্যাংকিং এর পাশাপাশি এজেন্ট ব্যাংক রয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংকের সামনে সিসি ক্যামেরা না থাকলে গ্রাহকদের চলাচল সন্দেহজনক ব্যক্তিদের অবস্থা যেমন, যেকোনো জরুরী পরিস্থিতির প্রমাণ সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে ব্যাংক সংশ্লিষ্ট অপরাধ দমন ও তদন্তে গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ব্যাংকের সামনে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হোক এবং গ্রাহকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক বটিয়াঘাটা শাখা ব্যবস্থাপক মো: ওহিদুজ্জামান বলেন, আমাদের ক্যামেরা বাইরে রয়েছে। কিন্তু সেটা আমাদের নিরাপত্তা স্বার্থে কাউকে বলা যাবে না, ক্যামেরাটি কোথায় আছে।

বটিয়াঘাটা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার হাফিজুর রহমান বলেন, ব্যাংকের সামনে ক্যামেরা থাকা অবশ্যই জরুরি দরকার। আমি অতিসত্বর ব্যাংক কর্মকর্তাদের ডেকে ব্যাংকের সামনে ক্যামেরা স্থাপন করার জন্য বলবো এবং মাসিক আইনশৃঙ্খলা মিটিং এ বিষয়টা উত্থাপন করব। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থান্দার কামরুজ্জামান বলেন, ব্যাংকের সামনে ক্যামেরা থাকা একটা জরুরী বিষয়। নিরাপত্তা সহিত ক্যামেরাটা অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু মাসিক আইন শৃঙ্খলা মিটিং এ বিষয়টা কেউ উত্থাপন করলে সেটা আলোচনা সাপেক্ষে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Facebook
Twitter
LinkedIn

সর্বশেষ খবর

turan hossain rana