
খুলনার তেরোখাদা উপজেলার মধুপুর গ্রামে বোমা নিক্ষেপ করতে গিয়ে নিজের বোমা বিস্ফোরণে মামুন মোল্যা নামে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরপরাধ বিএনপি নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ধরনের অপতৎপরতা বন্ধ ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে শনিবার খুলনা প্রেসক্লাবে শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে দাউদ মোল্যা বলেন, মধুপুর গ্রামে বোমা নিক্ষেপ করতে গিয়ে নিজের বোমা বিস্ফোরণে মামুন মোল্যা গুরুতর আহত হন এবং পরে তার মৃত্যু হয়। তেরোখাদা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে উল্লেখ করেছেন এবং তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল এই ঘটনাকে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। তাদের দাবি, তেরোখাদার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির কয়েকজন ত্যাগী নেতাকর্মীকে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর চেষ্টা চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল মোড়ল, জাতীয়তাবাদী মোটর চালক দলের খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি দাউদ মোল্যা, মধুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য গোলাম মোস্তফা, ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শাহজাহান শেখ, ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. জাকির মুন্সি, জুলহাস শেখ, লিটন শেখ এবং ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিক মোল্যা প্রমুখ।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, সহিদুল ইসলাম ও তার ভাই শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী মামুনের মৃত্যুকে পুঁজি করে বিএনপি নেতাকর্মীদের মামলা দিয়ে হয়রানির ভয় দেখাচ্ছে। তারা ইউনিয়ন বিএনপির নেতা শাহজাহান শেখের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে এবং মধুপুর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহীন শেখের বাড়ি থেকে পাঁচটি গরুসহ বিভিন্ন মালামাল লুটপাটের অভিযোগও করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, নিহত মামুন নিজেই বোমা তৈরি করতেন এবং একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী গ্রুপ পরিচালনা করতেন। অভিযোগ রয়েছে, এই গ্রুপটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল।
এ সময় প্রশাসনের প্রতি ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা ব্যক্তিগত স্বার্থের বলি না হন, সে বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।















