
মোঃ মনিরুজ্জামান চৌধুরী
নড়াইল প্রতিনিধি :
নড়াইলের সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের কালুখালী গ্রামে এক গৃহবধূ একসঙ্গে সাত সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তবে, জন্মের পর কোনো নবজাতককেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।জানা গেছে, কালুখালী গ্রামের ইজিবাইক চালক মহসিন মোল্যা ও তার স্ত্রী সালমা বেগমের বিয়ের ১০ বছর পর এই প্রথম সন্তান জন্ম নেয়। আল্ট্রাসোনোগ্রাফিতে ছয় সন্তানের অস্তিত্ব ধরা পড়লেও বাস্তবে সাতটি সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। এর মধ্যে চারটি ছেলে ও তিনটি মেয়ে সন্তান ছিল।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাতে সালমা বেগমের প্রসব বেদনা শুরু হলে তাকে যশোরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার রাতে প্রথমে দুটি সন্তান জন্ম নেয়। পরে বুধবার রাতে পর্যায়ক্রমে আরও পাঁচটি সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। সন্তানগুলো অপরিপক্ক অবস্থায়, প্রায় সাড়ে পাঁচ মাসে জন্ম নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত কাউকেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল ১১টার দিকে নবজাতক সাতটি সন্তানকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
নবজাতকদের দাদী মঞ্জুরা খাতুন বলেন, “দীর্ঘ ১০ বছর পর সন্তান হওয়ার খবরে আমরা সবাই অনেক খুশি ছিলাম। কিন্তু আল্লাহ আমাদের সন্তানগুলো রেখে দিলেন না।”
দাদা আব্দুল লতিফ মোল্যা বলেন, “আমার ছেলে আগে সৌদি আরবে ছিল। তিন বছর আগে দেশে এসে ইজিবাইক চালায়। অনেক আশা ছিল ঘরে সন্তান আসবে। সাতটি সন্তান হলো, কিন্তু একটাকেও বাঁচাতে পারলাম না। এই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো না।”
স্থানীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবু সেলিম জানান, সাত সন্তানের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়। তবে সন্তানগুলো মারা যাওয়ায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ইলা মণ্ডল জানান, সালমা বেগম তার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সন্তানগুলো অপরিপক্ক অবস্থায় জন্ম নেয়। প্রতিটি শিশুর ওজন ছিল প্রায় ২০০ গ্রাম। জন্মের সময় সবার হার্টবিট থাকলেও অতিরিক্ত অপরিপক্ক হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাদের বাঁচানো সম্ভব হল না।















