সর্বশেষ:

mayer name register kora jomi niye birodh

মায়ের নামে রেজিস্ট্রি করা জমি নিয়ে বিরোধ/ ভেঙেছে ১৮ বছরের সংসার, প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে অসহায় লুৎফুন নাহার

mayer name register kora jomi niye birodh
Facebook
Twitter
LinkedIn

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি

মায়ের নামে রেজিস্ট্রি করা জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরে ভেঙে গেছে ১৮ বছরের সংসার। এমন অভিযোগ করেছেন খুলনার পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের দেবদুয়ার শেখপাড়া গ্রামের বাসিন্দা লুৎফুন নাহার। তার দাবি, নিজের ও স্বামীর কষ্টার্জিত অর্থে কেনা জমি পারিবারিক বিশ্বাসের জায়গা থেকে মায়ের নামে রেজিস্ট্রি করেছিলেন। পরে সেই জমি ফেরত না পাওয়াকে কেন্দ্র করে দাম্পত্য কলহ বাড়তে বাড়তে একপর্যায়ে সংসার ভেঙে যায়। বর্তমানে প্রতিবন্ধী এক সন্তানসহ দুই ছেলেকে নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ভিন্ন দাবি করেছেন তার মা আনোয়ারা বেগম।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর অভিযোগে জানা যায়, প্রায় ১৮ বছর আগে নিজের বসতভিটার স্বপ্ন নিয়ে মামার সম্পত্তি থেকে জমি কেনার উদ্যোগ নেন লুৎফুন নাহার। প্রথমে ২০ হাজার টাকা বায়না দিয়ে পরে স্বামী শাহিনুর রহমানের সহযোগিতায় মোট প্রায় ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করে ১০ শতক জমি কেনার সিদ্ধান্ত হয়।

লুৎফুন নাহারের ভাষ্য, সে সময় জমির নামজারি সংক্রান্ত কিছু জটিলতার কারণে জমিটি তার নামে সরাসরি রেজিস্ট্রি করা সম্ভব হয়নি। এজন্য পারিবারিক বিশ্বাসের জায়গা থেকে মা আনোয়ারা বেগমের নামে জমি রেজিস্ট্রি করা হয়। পরবর্তীতে নিজের নামে জমি লিখে দেওয়ার অনুরোধ জানালে মা তাতে সম্মত হননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। লুৎফুন নাহারের দাবি, জমি নিয়ে বিরোধের কারণে পরিবারে অশান্তি বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে স্বামী শাহিনুর রহমানের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং তাদের ১৮ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটে। তিনি বলেন,”নিজের ও স্বামীর কষ্টার্জিত টাকায় জমি কিনেছিলাম। মায়ের ওপর বিশ্বাস রেখেই তার নামে রেজিস্ট্রি করেছিলাম। পরে জমি নিয়ে বিরোধ শুরু হলে সংসারেও প্রভাব পড়ে। এখন সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে।”

বর্তমানে লুৎফুন নাহার দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছেন। তার এক ছেলে শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধিতার শিকার। সন্তানদের ভরণপোষণ, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানান তিনি। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, পারিবারিক এই বিরোধের কারণে লুৎফুন নাহার দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও আর্থিক সংকটে রয়েছেন। বিষয়টির একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান হওয়া প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন। এ বিষয়ে আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে কথা হলে তিনি মেয়ের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ১০ শতাংশ জমির মধ্যে ৫ শতাংশ তার নিজের এবং বাকি ৫ শতাংশ বড় মেয়ে লুৎফুন নাহারের। তার দাবি, জমি ক্রয়ের অর্থের একটি অংশ লুৎফুন নাহার ও তার স্বামী দিয়েছেন এবং বাকি অংশ তার স্বামী শেখ আব্দুল লতিফ প্রদান করেছেন।

অন্যদিকে জমির বিক্রেতা কাজী উমর আলী ভিন্ন তথ্য দেন। তিনি বলেন, জমি বিক্রির সম্পূর্ণ অর্থ লুৎফুন নাহার ও তার স্বামী শাহিনুর রহমান পরিশোধ করেছেন। তাদের পক্ষে ভগ্নিপতি শেখ আব্দুল লতিফ তার কাছে টাকা পৌঁছে দেন।

Facebook
Twitter
LinkedIn

সর্বশেষ খবর

turan hossain rana