সর্বশেষ:

সংবাদে জেগেছে কর্তৃপক্ষ—বাস্তবে কি বদলাবে পাইকগাছার আমুরকাটা সড়কের চিত্র?

Facebook
Twitter
LinkedIn

আলাউদ্দিন সোহাগ,পাইকগাছা (খুলনা)

বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে—এই তৎপরতা কি বাস্তব পরিবর্তনে রূপ নেবে, নাকি আবারও আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ থাকবে? খুলনার পাইকগাছা উপজেলার দীর্ঘদিনের ভোগান্তির প্রতীক আমুরকাটা-চৌরাস্তা সড়ক এখন সংস্কারের আওতায় এসেছে বলে জানা গেছে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ সড়কটির বেহাল চিত্র তুলে ধরার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। দীর্ঘ ৭ কিলোমিটার এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে বর্তমানে সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে কাজের গতি ও মান নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন স্থানীয়রা।

পাইকগাছা উপজেলার ৫নং সোলাদানা ইউনিয়নের আমুরকাটা বাজার থেকে চৌরাস্তা পর্যন্ত বিস্তৃত এই সড়কটি আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসার পথ। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই সড়ক দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত ও বাজারে যাতায়াত করেন। অথচ দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকা এই সড়কটি খানাখন্দ, ভাঙা ইট ও উঁচু-নিচু সলিংয়ের কারণে একসময় চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।

বর্তমানে সংস্কার কাজ শুরু হলেও কোথাও কোথাও ধীরগতির কাজ ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ উঠছে। স্থানীয়দের মতে, অতীতে একাধিকবার অস্থায়ী মেরামত করা হলেও তা টেকেনি। ফলে এবারও যদি একইভাবে দায়সারা কাজ করা হয়, তাহলে কিছুদিন পরই আগের চিত্র ফিরে আসবে।স্থানীয় ভ্যানচালক আব্দুল করিম বলেন, “কাজ শুরু হয়েছে, এটা ভালো। কিন্তু আগের মতো যদি নিম্নমানের কাজ হয়, তাহলে আমাদের দুর্ভোগ কমবে না। আমরা টেকসই রাস্তা চাই।”ইজিবাইক চালক সোহেল গাজী বলেন, “সংবাদ হওয়ার পরই কাজ শুরু হয়েছে—এটা প্রমাণ করে সমস্যা ছিল। এখন দেখি কাজটা ঠিকমতো হয় কি না।”

গৃহবধূ রহিমা বেগম বলেন, “অনেকদিন ধরে কষ্ট করছি। এখন যদি ভালোভাবে রাস্তা হয়, তাহলে আমাদের ভোগান্তি কমবে।”শেখর রঞ্জন ঢালী ৩ ওয়ার্ড নং ইউপি সদস্য তিনি জানান এখন কোন বাজেট নাই তাই ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে এটা কিছুটা সংস্কার করা হচ্ছে।তবে এলাকাবাসীর একটাই দাবি—এই সড়ক যেন আর অস্থায়ী সমাধানের শিকার না হয়। ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি টেকসইভাবে নির্মাণ করা হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই নয়, পুরো এলাকার অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন তারা।এখন দেখার বিষয়—সংবাদে জাগ্রত এই উদ্যোগ কতটা বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘস্থায়ী হয়। কারণ মানুষ আর আশ্বাস নয়, চায় টেকসই উন্নয়ন—যেখানে প্রতিটি পথ হবে নিরাপদ, প্রতিটি যাত্রা হবে স্বস্তির।

Facebook
Twitter
LinkedIn

সর্বশেষ খবর

turan hossain rana