
মোঃ মনিরুজ্জামান চৌধুরী
নড়াইল প্রতিনিধি:
নড়াইলে সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধ প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল। জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ পুলিশ-এর নড়াইল জেলা পুলিশ সুপারের প্রতি অবিলম্বে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
নড়াইল জেলা আরজেএফ’র সভাপতি মোঃ সাজ্জাদ আলম খান সজল বলেন, গত ৫ আগস্টের পর থেকে জেলায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তার দাবি, কেউ প্রকাশ্যে, কেউ আড়ালে, আবার কেউ বিদেশে বসে অপরাধ জগতের কলকাঠি নাড়ছেন। বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনার মধ্য দিয়ে তারা নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। খুন, এলাকা নিয়ন্ত্রণ, আধিপত্য বিস্তার, পেশিশক্তির প্রদর্শন, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে।
তিনি জানান, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে একাধিক মামলা ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে এবং কয়েকজন গ্রেপ্তারও হয়েছেন। তবে তাতেও অপরাধ কমছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সচেতন মহলের ভাষ্য অনুযায়ী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর জেলায় খুন, চুরি, ডাকাতি, লুটপাট ও মাদকের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, চুরি-ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
তাদের অভিযোগ, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা কমে যাওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। পুলিশের নির্লিপ্ততা ও প্রশাসনের মন্থর গতির কারণে পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে বলেও অনেকে মনে করছেন। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত না হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
এছাড়া দেশব্যাপী রাজনৈতিক অস্থিরতা, বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর স্থানীয় কোন্দল এবং নড়াইল-২ আসনে বিজয়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর রাজনৈতিক টানাপোড়েনকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতিকেও অপরাধ বৃদ্ধির পেছনে একটি কারণ হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।
নড়াইলবাসীর জোর দাবি, বিশেষ অভিযান পরিচালনা, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।















