
এস,এম,আলাউদ্দিন সোহাগ,পাইকগাছা (খুলনা)
খুলনার উপকূলঘেঁষা জনপদ কয়রার মসজিদকুড় গ্রামে দাঁড়িয়ে আছে শতাব্দীর সাক্ষী এক ঐতিহাসিক স্থাপনা— মসজিদকুড় মসজিদ। বাংলার সুলতানি আমলে (১৩’শ থেকে ১৬’শ শতক) স্থাপত্যেধরার স্মারক হিসেবে এটি শুধু একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের ইতিহাস, সাংস্কৃতি ও ধর্মীয় বিস্তারের গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
খুলনা জেলা শহর থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরে কয়রা উপজেলার আমাদি ইউনিয়নে অবস্থিত মসজিদটি। ইউনিয়নের মসজিদকুঁড় গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলা কপোতাক্ষ নদের ঠিক পূর্ব পারে মসজিদটির অবস্থান। সুলতানি আমলে নির্মিত মসজিদটি কালক্রমে অনেকবার সংস্কার করা হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহাসিক নিদর্শন মসজিদকুঁড় এখন সরকারের তত্ত্বাবধানে সংস্কার এবং রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৪৫০-১৪৯০ সালে খানজাহান আলীর (রহ.) শিষ্য বুড়া খান ও ফতেহ খান আমাদি গ্রামে কাছারি স্থাপন করে শাসন করতেন। সে সময়ে তারা মসজিদকুঁড় নির্মাণ করেন। মসজিদটি প্রায় ৪৫ একর জায়গার ওপর নির্মিত। ইট-সুরকির মসজিদটি দক্ষিণবাংলার সবচেয়ে প্রাচীন স্থাপনা।
মসজিদের দক্ষিণ দিকে বুড়া খান ও ফতেহ খানের কাছারিবাড়ি ও সমাধি ছিল। তা বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিলীন হয়ে গেছে। মূল মসজিদও একসময় তলিয়ে গিয়েছিল। আশপাশের সমস্ত এলাকা জঙ্গল হয়ে গিয়েছিল। মানুষ মসজিদে যেতে সাহস করতো না। পরে বিংশ শতাব্দীর শুরুতে বিপুল সংস্কার করে মসজিদটি উদ্ধার করা হয়।
মসজিদকুঁড় ঘুরে দেখা যায়, বর্গাকার মসজিদের প্রতি পাশের মাপ হচ্ছে ১৬ দশমিক ৭৬ মিটার এবং ভেতরের মাপ ১২ দশমিক ১৯ মিটার। কেবলামুখী দেওয়াল বাদে বাকি তিন দেওয়ালে মসজিদে ঢোকার জন্য তিনটি করে প্রবেশদ্বার। মাঝের প্রবেশদ্বারগুলো অপেক্ষাকৃত বড়।















