
পাইকগাছা ( খুলনা ) প্রতিনিধি
সরকারি নির্ধারিত ফি যেখানে মাত্র কয়েকশ টাকা, সেখানে খুলনার পাইকগাছা উপজেলা ভূমি অফিসে নামজারি, জমা খারিজ ও খতিয়ান সংশোধনের মতো সাধারণ কাজে সেবাগ্রহীতাদের গুণতে হচ্ছে ১০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত। দালালচক্রের দৌরাত্ম্য আর অফিসের অভ্যন্তরীণ সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ মানুষ চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখা, কাগজে অযৌক্তিক ত্রুটি দেখানো কিংবা মাসের পর মাস ঘোরানো এখানে নিয়মে পরিণত হয়েছে।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরাসরি আবেদন করলেই শুরু হয় টালবাহানা। কখনো বলা হয় ‘এসিল্যান্ড নেই’, কখনো ‘রিপোর্ট আসেনি’। ঠিক তখনই দালালচক্র সামনে এসে ‘দ্রুত কাজ করে দেওয়ার’ প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে।
একাধিক সূত্রের দাবি, অফিসের ভেতর ও বাইরের একটি সমন্বিত সিন্ডিকেট এই অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ করে। অভিযোগের আঙুল উঠেছে ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. শহিদুল ইসলাম, অফিস সহকারী অমৃত্য ও জিহাদের দিকে। ইতিপূর্বে অমৃত্য ও জিহাদ উল্লাহ কে দুর্ণিতির অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে উপজেলার প্রতাপকাটী গ্রামের নজরুল ইসলাম নামে একজন মামলা করেন। অভিযোগ রয়েছে, তার নেতৃত্বেই এই সিন্ডিকেট পরিচালিত হয় এবং দিনের শেষে সংগৃহীত অর্থের ভাগ-বাটোয়ারা হয়। অফিস থেকে তথ্য পাচার করে দালালদের মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয় বলেও গুঞ্জন রয়েছে।
সৈয়দ সালাম উল্ল্যাহ নামে এক ব্যক্তি নিজেকে সাবেক বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিয়ে প্রতিদিন অফিস চলাকালীন ভূমি অফিসে অবস্থান করেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।সম্প্রতি বাতিখালী গ্রামের সাবিনা বেগম নামে এক নারীর কাছ থেকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার নামে ১০ হাজার টাকা নেন তিনি। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে তিনি টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন। এ বিষয়ে তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সার্ভেয়ার মো. শহিদুল ইসলাম মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বক্তব্য দেবেন।”সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বী অফিসে দালালচক্রের অস্তিত্ব অস্বীকার করে বলেন, ‘সার্ভেয়ারসহ সকল কর্মচারী নিয়ম মেনেই দায়িত্ব পালন করছেন। অনেক সময় ভিত্তিহীন অভিযোগ ওঠে। অফিসের বাইরে কেউ অননুমোদিতভাবে টাকা লেনদেন করলে তা বেআইনি। ভুক্তভোগীরা সরাসরি লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব। অনিয়ম রোধে আমরা নিয়মিত মনিটরিং করছি।’তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অস্বীকার করা হলেও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও মাঠ পর্যায়ের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। এই অনিয়ম বন্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।















