
বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি : মোঃ রাকিবুল ইসলাম
বাগেরহাট সদর উপজেলার ৬ নং যাত্রাপুর ইউনিয়নের উৎকুল গ্রামের বড় মিয়ার মাঠের পাশে হায়া বুড়ি (আনুমানিক ৭০–৭৫ বছর) নামে এক বৃদ্ধা আগুনে পুড়ে মর্মান্তিকভাবে মারা গেছেন। ঘটনা সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে এলাকাবাসী ঘুমিয়ে পড়ার পর কোনো এক সময় হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত ঘটে। রাত আনুমানিক তিনটার দিকে আশপাশের লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান, ওই বৃদ্ধা ভয়াবহভাবে আগুনে পুড়ে গেছেন। তার দেহ সম্পূর্ণ দগ্ধ হয়ে কয়লার মতো পুড়ে কেবল কঙ্কালসদৃশ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
শুক্রবার সকালে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেন। তবে আগুন কীভাবে লেগেছে—চুলা, কয়েল নাকি শীত নিবারণের আগুন থেকে—এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা কেউই সুনির্দিষ্ট কারণ বলতে পারছেন না। পুলিশ তদন্তের স্বার্থে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাটে নিয়ে যা-ই।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত হায়া বুড়ির কোনো সন্তান ছিল না। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানুষের বাড়ি থেকে চেয়ে-চিন্তে সামান্য খাবার সংগ্রহ করে নিজের ভরণপোষণ চালাতেন। এলাকাবাসীর কাছে তিনি একজন অসহায় ও নিরীহ বৃদ্ধা হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধি দল। এ সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাগেরহাট সদর উপজেলার আমির বলেন, “শুক্রবার রাতে আগুনে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবারের দিনে মৃত্যু হওয়া আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বিশেষ নিয়ামত, এটি খুবই একটি সুন্দর মৃত্যু।”
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর ডাক্তার মাওলানা ফেরদাউস আলী, যাত্রাপুর ইউনিয়ন টিম সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, উৎকুল ওয়ার্ড সভাপতি বাদশা এবং উৎকুল সেক্রেটারি হাফিজুর রহমান। তারা গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং নিহতের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। ঘটনাস্থলটি সম্পূর্ণভাবে আগুনে পুড়ে যাওয়ায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের মতে, এটি একটি অত্যন্ত ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক ঘটনা।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই খবরের ইউনিক একটু বড় করে খুব সুন্দর করে কিছু শিরোনাম লিখে দাও














