
পাইকগাছা ( খুলনা ) প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার আলোচিত ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ১৮১৮ সালের সীমানা পিলার’ (ধাতব বস্তু) উদ্ধার মামলায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশি তদন্তে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সম্পৃক্ততার বিষয় উঠে আসার পর মামলায় পাইকগাছা উপজেলার এক যুবদল নেতার নাম যুক্ত হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মামলার ৫ নম্বর আসামি হিসেবে পাইকগাছা উপজেলার লস্কর ইউনিয়নের মৃত ইউনুছ গাজীর ছেলে ও যুবদল নেতা শহীদ গাজী (৪০)-এর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। এর আগে গত ৫ মে রাত ১০টার দিকে তালা উপজেলার কলাগাছি গ্রামে দলিল লেখক ভোলানাথ মণ্ডলের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ সীমানা পিলার সদৃশ একটি ধাতব বস্তু উদ্ধার করে। এ সময় একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয় এবং বাড়ির মালিক ভোলানাথ মণ্ডল, পাইকগাছার লস্কর এলাকার তুষার কান্তি সরদার (৩৫), একই এলাকার দলিল লেখক সুশান্ত সরকার (৪৪) ও বটিয়াঘাটার কথিত পিলার বিশেষজ্ঞ যাদব সরকার (৪২)-কে গ্রেফতার করা হয়।
এ ঘটনায় গত ৭ জুন সাতক্ষীরার তালা থানায় দায়ের হওয়া মামলায় থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তপন কুমার বিশ্বাস বাদী হন। বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়েরকৃত মামলার নম্বর-৪। মামলায় শহীদ গাজী ছাড়াও আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, উদ্ধার হওয়া ধাতব বস্তুটি বিদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পুলিশের তৎপরতায় সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। এদিকে মামলায় গ্রেফতার আসামিদের জামিনের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে তদবির ও অর্থ ব্যয়ের অভিযোগও উঠেছে। কারণ মামলায় গ্রেফতারদের মধ্যে রয়েছেন এক প্রবীণ দলিল লেখকের ঘনিষ্ঠ স্বজনরা। তবে এখন পর্যন্ত আদালত কোনো আসামির জামিন মঞ্জুর করেননি বলে জানা গেছে।
সীমানা পিলার উদ্ধারকাণ্ডে নতুন করে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম আলোচনায় আসায় পাইকগাছা ও তালা অঞ্চলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মামলার তদন্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।
তালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, “মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে সব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে নির্দোষ কোনো ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।”















