
ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি :
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন’২৬ ঘিরে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার ১০নং পহরডাঙ্গা ইউনিয়নে রাজনৈতিক অঙ্গন ধীরে ধীরে সরগরম হয়ে উঠছে। যদিও নির্বাচন কমিশন এখনো ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেনি, তবুও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। চায়ের দোকান, হাট-বাজার, সামাজিক অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম —সবখানেই এখন নির্বাচনী আলোচনা অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সূত্রে জানা যায়, এবার চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা রয়েছে একাধিক পরিচিত মুখের।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে নড়াগাতী থানা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব ঠাকুর আবু আজম অন্যতম আলোচিত নাম। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা, বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতা এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের কারণে ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে তার একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করেন। এছাড়া বর্তমান চেয়ারম্যান মল্লিক মাহমুদুল ইসলাম-এর নামও আলোচনায় রয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা তাকে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রেখেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত।
তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন সমাজকর্মী মো. নাইমুল ইসলাম বরকত। সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ডে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ অনেক তরুণ ভোটারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। একইভাবে সমাজসেবক সাবেক চেয়ারম্যান সিকদার আহসান আলী (লাবু)-এর নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগ তাকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রেখেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব সিকদার কোবাদ হোসেন-এর নামও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছে। দলীয় রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি একটি শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বলে স্থানীয়দের ধারণা। এছাড়া যুবনেতা ও ব্যবসায়ী এস এম আহসান উদ্দীন সবুজ, সমাজসেবক ও সংগঠক খান মফিজুর রহমান (মফিজ), বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী জাকির ভূঁইয়া, তরুণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মো. আহমেদ সিকদার (মিরাজ), বিশিষ্ট আলেম ও সমাজসেবক মাওলানা লিয়াকত আলী এবং মোল্লা রকিত হোসেন ও তরুণ নেতা মো. সেলিম মোল্লা-র নামও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পহরডাঙ্গা ইউনিয়নে এবার চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ জমজমাট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের রাজনৈতিক পরিচিতি, জনসম্পৃক্ততা, সামাজিক কর্মকাণ্ড, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা এবং ভোটারদের সঙ্গে সম্পর্ককে ঘিরে ইতোমধ্যে নানা ধরনের হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন এখনো কোনো তফসিল ঘোষণা করেনি এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেননি। ফলে নির্বাচনী মাঠে নতুন মুখের আগমন কিংবা সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান পরিবর্তনের সুযোগ এখনো রয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এবং প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করলে নির্বাচনী চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
ইতোমধ্যে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের মধ্যে উন্নয়ন, সুশাসন, সামাজিক সম্প্রীতি, কৃষি, শিক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ নানা ইস্যু নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভোটাররা এমন একজন জনপ্রতিনিধি প্রত্যাশা করছেন, যিনি ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন এবং সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম হবেন। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত কোন কোন প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী মাঠে নামেন এবং পহরডাঙ্গা ইউনিয়নের ভোটাররা কাকে তাদের আগামী দিনের প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেন।















