সর্বশেষ:

নড়াইলের নড়াগাতীর প্রধান সড়ক মৌসুমী ফসল মাড়াইয়ের দখলে প্রতিদিন ঘটছে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা, নেই কোনো প্রতিকার

Facebook
Twitter
LinkedIn

মোঃ মনিরুজ্জামান চৌধুরী
নড়াইল প্রতিনিধি

নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী এলাকায় প্রধান সড়কগুলো এখন মৌসুমী ফসল মাড়াইয়ের দখলে চলে গেছে। স্থানীয় কৃষকেরা মশুরী, কলাই, বুট, সরিষা ও অন্যান্য মৌসুমী ফসল শুকানো ও মাড়াইয়ের জন্য সড়কের উপর ছড়িয়ে রাখছেন। এতে করে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং দিন দিন বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটলেও এ সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান দেখা যাচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফসল কাটার মৌসুম এলেই নড়াগাতীসহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের কৃষকেরা সড়কের উপর ফসল ছড়িয়ে শুকাতে দেন। পরে ট্রলি বা অন্যান্য যন্ত্রের মাধ্যমে সেখানেই ফসল মাড়াই করা হয়। এতে করে দিনের পর দিন সড়কের বড় একটি অংশ দখল হয়ে থাকে এবং যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়।এ অবস্থায় মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, ভ্যান, ট্রলি ও অন্যান্য যানবাহন চলাচলে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে রাতে সড়কের উপর ছড়িয়ে থাকা ফসল অনেক সময় চালকদের চোখে পড়ে না। ফলে হঠাৎ করে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব দুর্ঘটনা প্রাণঘাতী রূপও নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে একই চিত্র দেখা গেলেও এ বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। সড়কে ফসল শুকানো ও মাড়াই করার কারণে পথচারী, শিক্ষার্থী ও যানবাহনের চালকেরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে চলাচল করছেন।এ বিষয়ে পহরডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মল্লিক মাহমুদুল ইসলাম বলেন, “সড়কের উপর ফসল মাড়াইয়ের কারণে প্রায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। অনেক সময় পথচারীরা প্রাণও হারাচ্ছেন। মূলত সচেতনতার অভাব ও প্রশাসনিক তদারকির ঘাটতির কারণেই এই সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।”

এদিকে নড়াগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আব্দুর রহিম বলেন, “আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি যাতে সড়কে এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করা যায়। তবে এ ক্ষেত্রে এলাকাবাসীর সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলকে নিয়ে সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমেই এই ধরনের কাজ বন্ধ করা সম্ভব এবং দুর্ঘটনা অনেকটাই এড়ানো যাবে।”
সচেতন মহলের মতে, কৃষকদের বিকল্প জায়গা নির্ধারণ করে দিলে সড়কে ফসল শুকানো ও মাড়াইয়ের প্রবণতা অনেকটাই কমে আসবে। পাশাপাশি প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও স্থানীয়দের সচেতনতা বৃদ্ধি করা হলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। অন্যথায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

Facebook
Twitter
LinkedIn

সর্বশেষ খবর

turan hossain rana