
সামজাদ জসি
সিনিয়র রিপোর্টার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মুরছালিন (২২) নামের এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের খামারহাটি সীমান্ত এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।নিহত মুরছালিন উপজেলার ধজনগর বাতেনবাড়ি গ্রামের খেবজু মিয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয় শাহ আলম ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। এই ঘটনায় বিএসএফের গুলিতে আরও অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাতে একদল ব্যক্তি খামারহাটি সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি বর্ষণ শুরু করে। গুলিতে ঘটনাস্থলেই মুরছালিন প্রাণ হারান।গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ জন। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
মুরছালিনের অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ছেলের এমন মৃত্যুতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তার বাবা-মা। মেধাবী এই শিক্ষার্থীর অকাল প্রয়াণে সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।আমার ছেলেটা কেবল কলেজে যাওয়া শুরু করেছিল। কেন তাকে এভাবে গুলি করে মেরে ফেলা হলো? আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। বিলাপ করতে করতে বলছিলেন নিহতের এক স্বজন।
এ বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে দায়িত্বরত সদস্যরা জানান, সীমান্তে গুলির খবর তারা পেয়েছেন। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ বা বিস্তারিত তথ্য এখনো তাদের কাছে পৌঁছায়নি। এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বলে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।সীমান্তে উত্তেজনা এড়াতে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে কাজ চলছে।
সবশেষ সংবাদ: এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।















