সর্বশেষ:

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ( WFP) প্রকল্পের আওতায় বদলে যাচ্ছে পাইকগাছার গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ; সহজ হচ্ছে নদী পারাপার ও যাতায়াত ব্যবস্থা

Facebook
Twitter
LinkedIn

এস,এম,আলাউদ্দিন সোহাগ,পাইকগাছা খুলনা থেকে

খুলনার পাইকগাছায় বিশ্বখাদ্য কর্মসূচি’র আওতায় বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ রাস্তা। WFP এর কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় এক কোটি ২৪ লাখ ১২ হাজার টাকা ব্যয়ে উপজেলার দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা ইউনিয়ন সোলাদার দুই কিলোমিটার ৬৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের গুরুত্বপূর্ণ দুটি রাস্তার উন্নয়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৯৫ ভাগ উন্নয়ন কাজ শেষ করেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে উন্নয়ন কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী। এদুটি রাস্তার উন্নয়ন করার ফলে উপজেলা সদর সহ এলাকার হাটবাজার, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ ও মন্দিরে যাতায়াত এবং নদী পারাপার সহজ হওয়ার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি এবং মানুষের জীবনমান উন্নত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ।

উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন শিবসা নদীর ধারে অবস্থান হওয়ায় প্রতিবছর দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সোলাদানা ইউনিয়ন। আধুনিক জনজীবনে এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে এই ইউনিয়ন টি। এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সবচেয়ে নাজুক। ফলে মানুষের জীবন মানের এখনো তেমন উন্নতি হয়নি। বেশির ভাগ রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী। ফলে যাতায়াতে চরম ভোগান্তি হয় এখানকার মানুষের। দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা ইউনিয়ন গুলোর মধ্যে সোলাদানা অন্যতম। বিশ্বখাদ্য কর্মসূচি (WFP) এর কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায়, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সুশীলন কর্তৃক বাস্তবায়ীত ”দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস (ডিআরআর) প্রকল্পের” ইউনিয়নের দুটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার উন্নয়ন করা হচ্ছে। যার মধ্যে আমুরকাটা বাজার হতে দীঘা পর্যন্ত দুই কিলোমিটার ৪২০ মিটার দৈর্ঘ্যের মাটির রাস্তা সংস্কার ( বিএফএস)। একাজের চুক্তি মূল্য ধরা হয়েছে ৯৯ লক্ষ্য ৫২ হাজার ৯০৪ টাকা। উন্নয়ন কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাগর এন্টারপ্রাইজ। ইতোমধ্যে ৮৭ ভাগ উন্নয়ন কাজ শেষ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। গুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তার উন্নয়ন করার ফলে দীঘা, দক্ষিণ কাইনমূখী, উত্তর কাইনমূখী, পশ্চিম কাইনমূখী ও গোলবুনিয়া সহ ৫ গ্রামের মানুষের উপজেলা সদর, আমুরকাটা বাজার ও চারবান্দা বাজার এবং স্কুল, মসজিদ মন্দিরে যাতায়াত সহজ হবে।

অনুরূপভাবে ২৪ লাখ ৫৯ হাজার ৭৩৬ টাকা ব্যয়ে সোলাদানা বাজার হতে খেয়াঘাট পর্যন্ত ২৩০ মিটার মাটির রাস্তা উন্নতিকরণ করা হচ্ছে। উন্নয়ন কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আরাফ এন্টারপ্রাইজ। এটার প্রায় ৯৫ ভাগ উন্নয়ন কাজ শেষ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ইট বসানোর কাজ শেষ হলে রাস্তাটি শতভাগ ব্যবহার করতে পারবেন নদী পারাপারের মানুষ।এর আগে সোলাদানা খেয়াঘাটের এই রাস্তাটির অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। যার কারণে নদী পারাপারে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ এবং ভোগান্তি হতো। এখন থেকে সোলাদানা, লতা ও দেলুটি সহ ৩ ইউনিয়নের মানুষের নদী পারাপার সহজ হবে বলে জানান সোলাদানা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এসএম এনামুল হক। প্রকল্পের সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ( এলজিইডি)। এদিকে উন্নয়ন কাজের শেষ পর্যায়ের অগ্রগতি পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী। তিনি সরকারি কর্মকর্তা ও প্রকল্পের কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে ২৬ জানুয়ারি সোমবার দুপুরে দুটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেন। এসময় অন্যান্যদের উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক, উপজেলা প্রকৌশলী শাফিন শোয়েব, শিক্ষা অফিসার বিদ্যুৎ রঞ্জন সাহা, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এসএম এনামুল হক, জনস্বাস্থ্যের উপ সহকারী প্রকৌশলী প্রশান্ত পাল, এলজিইডি’র উপ সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম, উন্নয়ন সংস্থা সুশীলনের প্রকল্প সমন্বয়কারী-মোঃ ইমরান হোসেন, জেলা সমন্বয়কারী-স্নিগ্ধা ঘোষ, উপজলা সমন্বয়কারী-আয়ুব আলী, ডিআরআর সমন্বয়কারী-তানভীর আহমেদ, প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, ইউপি সদস্য শেখর চন্দ্র ঢালী, ঠিকাদার জাহাঙ্গীর আলম ও গাজী ফয়সাল রাশেদ সনি।

Facebook
Twitter
LinkedIn

সর্বশেষ খবর

turan hossain rana