
বটিয়াঘাটা প্রতিনিধিঃ
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার ৩ নম্বর গঙ্গারামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ওলিয়ার রহমানের একটি অডিও কথোপকথন ফাঁস হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে তার একটি বক্তব্য স্থানীয় রাজনীতিতে তীব্র আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।ফাঁস হওয়া অডিওতে ওলিয়ার রহমানকে বলতে শোনা যায়, আমার উদ্দেশ্য ছিল আসলামকে হারানো। তাই আমি জামাত, আওয়ামী লীগ বা অন্যান্য যারা আছে তাদের দিয়ে ইউনিয়ন বিএনপির ভোটার বানিয়েছিলাম। পরবর্তীতে তারা ধানের শীষে ভোট দিক বা দাঁড়িপাল্লায় দিক তাতে আমার কিছু আসে যায় না। আমার দরকার ছিল আসলামকে হারানোর, তা আমি হারিয়েছি।
অডিওতে করা এ মন্তব্যকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, একজন ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতির মুখে এমন বক্তব্য দলীয় অবস্থানের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। অনেকেই মনে করছেন, এতে স্থানীয় নির্বাচনী রাজনীতির অন্তর্নিহিত কৌশল ও দ্বন্দ্বের বিষয়টি সামনে এসেছে।বটিয়াঘাটা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মেহেদী আল আজাদ বলেন, একজন দায়িত্বশীল নেতার কাছ থেকে এমন বক্তব্য প্রত্যাশিত নয়। যদি অডিওর বক্তব্য সত্য হয়ে থাকে, তবে এটি দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার শামিল। বিষয়টি দলীয়ভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
গঙ্গারামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মামুন খান বলেন, একজন ইউনিয়ন সভাপতির দায়িত্ব হচ্ছে দলের প্রতীক ও নীতির পক্ষে কাজ করা। কিন্তু অডিওতে যে বক্তব্য শোনা গেছে, তা দলের আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ সরোয়ার হালদার বলেন, দলের ভেতরে থেকে যদি কেউ এমন বক্তব্য দেন, তাহলে তা সাধারণ কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। এ বিষয়ে দ্রুত সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ জাকারিয়া মোড়ল বলেন, বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। এখানে ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য এমন মন্তব্য করা দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।গঙ্গারামপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জাহিদুল সরদার বলেন, অডিওতে যে বক্তব্য শোনা গেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন সভাপতি যদি এমন কথা বলেন, তাহলে তা দলের তৃণমূল পর্যায়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রকাশ হওয়া অডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে দলের ভেতরেও আলোচনা শুরু হয়।তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ওলিয়ার রহমান। তিনি বলেন, ইউনিয়ন বিএনপির নির্বাচিত সভাপতি হওয়া সত্ত্বেও তাকে পাশ কাটিয়ে অন্য একজনকে সংসদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছিল, যা নিয়ে তার মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। তবে তিনি দাবি করেন, তার কথোপকথনের অংশ বিশেষ কেটে প্রচার করা হয়েছে।এদিকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে উপজেলা বিএনপি।
বটিয়াঘাটা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এজাজুর রহমান শামীম বলেন, ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডিংটি দলের নেতারা শুনেছেন। এ ঘটনায় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ওলিয়ার রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।তিনি বলেন, তার কাছ থেকে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। ব্যাখ্যা পাওয়ার পর দলীয়ভাবে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।













