
মোঃ মনিরুজ্জামান চৌধুরী
নড়াইল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় নড়াইল-১ সংসদীয় আসনে দিন দিন বাড়ছে নির্বাচনী তৎপরতা। নড়াগাতীসহ কালিয়া উপজেলার গ্রাম-গঞ্জ ও হাটবাজারে এখন ভোটের আলোচনা আর প্রচারণাই মুখ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের সরব উপস্থিতিতে পুরো এলাকা জুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
কলাবাড়িয়া, বাঐশোনা, জয়নগর, খাশিয়াল, মাউলী ও পহরডাঙ্গা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ও বাজারে দেখা যাচ্ছে প্রার্থীদের গণসংযোগ। কোথাও পথসভা, কোথাও উঠান বৈঠক, আবার কোথাও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন তারা। পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন আর মাইকিংয়ে নড়াগাতী–কালিয়া অঞ্চল যেন রঙিন নির্বাচনী শহরে রূপ নিয়েছে।
ভোটারদের মন জয়ে প্রার্থীরা তুলে ধরছেন উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা। কেউ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কেউ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, আবার কেউ অবহেলিত এলাকার সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। প্রায় সব প্রার্থীরই দাবি—বিজয়ী হলে নড়াগাতী উপজেলাসহ পুরো এলাকায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা হবে।
নড়াইল-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা মো. ওবায়দুল্লাহ কায়সার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুল আজিজ পেয়েছেন হাতপাখা প্রতীক। জাতীয় পার্টির মো. মিল্টন মোল্যা লড়ছেন লাঙ্গল প্রতীকে।
এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অধ্যাপক বি এম নাগিব হোসেন নির্বাচন করছেন কলস প্রতীকে, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) এস. এম. সাজ্জাদ হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ফুটবল প্রতীকে এবং সুকেশ সাহা আনন্দ লড়ছেন ঘোড়া প্রতীকে।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন পর নির্বাচনকে ঘিরে এলাকায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। অনেক ভোটার বলছেন, তারা উন্নয়নমুখী ও জনবান্ধব প্রার্থীকে ভোট দিতে আগ্রহী।
এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাঠে রয়েছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে নড়াগাতী ও কালিয়া উপজেলার সর্বত্র এখন নির্বাচনের উত্তেজনা, প্রত্যাশা আর ব্যস্ততা।















