
এস,এম,আলাউদ্দিন সোহাগ,|পাইকগাছা (খুলনা)
দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা দিয়েছেন নবনিযুক্ত জেলা পরিষদ প্রশাসক ও খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী। তিনি বলেছেন, জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না এবং কাজের নামে কেউ অর্থ আদায় করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।শনিবার সকালে খুলনার পাইকগাছা পৌরসভা চত্বরে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী, পেশাজীবী ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাপ্পী বলেন, “জনগণের টাকা লুটপাটের সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে একটি অপসংস্কৃতি চালু রয়েছে—কাজ করতে গেলে নির্দিষ্ট হারে কমিশন বা ‘পার্সেন্টেজ’ দিতে হয়। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমার মাধ্যমে কোনো কাজ করতে হলে কাউকে কোনো ধরনের অর্থ প্রদান করতে হবে না। আমি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে কাজ করতে চাই।”তিনি আরও বলেন, “ঘের দখল, চাঁদাবাজি বা কোনো ধরনের অনিয়মে জড়িত থাকলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দল থেকেও বহিষ্কার করা হবে।” একই সঙ্গে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।”
নির্বাচন প্রসঙ্গে বাপ্পী বলেন, “আমি নির্বাচিত হতে পারিনি, তবে এতে আমার কোনো হতাশা নেই। প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার ৭০০ মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে যে আস্থা ও ভালোবাসা দেখিয়েছেন, সেটিই আমার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এই ভালোবাসার প্রতিদান দিতে আমি সবসময় আপনাদের পাশে থাকতে চাই।”তিনি বলেন, “দল আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, সেটি একটি বড় আস্থা ও সম্মানের বিষয়। এই দায়িত্ব আমি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে চাই। খুলনা জেলার উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করাই আমার প্রধান লক্ষ্য।”
ঈদ উপলক্ষে সরকারি সহায়তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রত্যেক সংসদ সদস্য তাদের নিজ নিজ এলাকায় অসহায় মানুষের জন্য সহায়তা প্রদান করেছেন। কিন্তু খুলনা-৬ আসনের পাইকগাছা- কয়রার মানুষ সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তবুও আমি ব্যক্তিগতভাবে চেষ্টা করবো, যেন এলাকার মানুষ কোনোভাবে বঞ্চিত না হয়।”
ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দিরসহ সব ধরনের ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কাজ করা হবে। সমাজের সকল স্তরের মানুষের সঙ্গে নিয়ে একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত এলাকা গড়ে তুলতে চাই।”গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপজেলা ও পৌর বিএনপি প্রথমে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধান অতিথিকে বরণ করে নেয়। পরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে ফুল দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়।উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. আব্দুল মজিদ এর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব এস এম ইমদাদুল হক এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কে এম আশরাফুল ইসলাম নান্নু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান এস এম এনামুল হক, পৌর বিএনপির সভাপতি আসলাম পারভেজ, সাধারণ সম্পাদক কামাল আহমেদ সেলিম নেওয়াজ, নবনিযুক্ত জেলা পরিষদ প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পী সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের মধ্যে পাইকগাছা প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ইউনিটি, পাইকগাছা সরকারি কলেজ, ফসিয়ার রহমান মহিলা কলেজ, শহীদ আইয়ুব মুসা কলেজ, কপিলমুনি কলেজ, পূজা উদযাপন পরিষদ, আগড়ঘাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ষোলআনা ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি, বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতি, পাইকগাছা মৎস্য আড়ৎদারী সমবায় সমিতি, পোনা ব্যবসায়ী সমিতি, ঠিকাদার কল্যাণ সমিতি, সরল কালিবাড়ী মন্দির কমিটি, বাজার মন্দির কমিটি, শিববাড়ি রাসমেলা কমিটি, টাউন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চলন্তিকা সংঘসহ অন্যান্য সংগঠন প্রধান অতিথিকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়।















