আলাউদ্দিন সোহাগ,পাইকগাছা (খুলনা)
‘আমার গ্রাম-আমার শহর" রূপকল্পে যখন দেশের প্রতিটি প্রান্তরের চেহারা বদলে যাচ্ছে, তখন খুলনার পাইকগাছা উপজেলার ৯ নং চাঁদখালী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ঢ্যামসাখালী গ্রামটি যেন এক বিপরীত চিত্র। আধুনিক উন্নয়নের এই যুগেও গ্রামের প্রধান সড়কটি সংস্কারের অভাবে আজ মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। জনবসতিপূর্ণ এই জনপদটি যেন আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত এক অবহেলিত ‘দ্বীপ। ভোগান্তির শেষ নেই, দেখার কেউ নেই সরেজমিনে দেখা যায়, ঢ্যামসাখালী গ্রামের চলাচলের একমাত্র প্রধান গ্রামীণ রাস্তাটি দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে আছে। বর্ষা মৌসুমে হাঁটু সমান কাদা আর জলাবদ্ধতায় পুরো সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। আবার শুকনো মৌসুমে ইটের ভাঙা খোয়া আর ধুলোবালির দাপটে পথচারীদের নাভিশ্বাস ওঠে। এই জরাজীর্ণ সড়ক দিয়েই প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী, অসুস্থ রোগী ও সাধারণ পথচারীরা। থমকে গেছে গ্রামীণ অর্থনীতি অত্র এলাকার অধিকাংশ মানুষ কৃষিজীবী।
স্থানীয় কৃষকরা আক্ষেপ করে জানান, উৎপাদিত পণ্য সময়মতো বাজারে নেওয়ার জন্য কোনো যানবাহন গ্রামে ঢুকতে চায় না। রাস্তার বেহাল দশার কারণে পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ গুণতে হচ্ছে তাদের। এতে করে ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রান্তিক কৃষকরা। জরুরি প্রয়োজনে কোনো রোগীকে হাসপাতালে নিতে হলে অ্যাম্বুলেন্স আসার পথ নেই; অগত্যা ভ্যান বা খাটিয়ায় করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। এলাকাবাসীর ক্ষোভ ও প্রাণের দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চারদিকে বড় বড় মেগা প্রকল্পের কাজ চললেও এই সড়কটির দিকে প্রশাসনের কোনো নজর নেই। গ্রামবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার সারা দেশে উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দিচ্ছে, কিন্তু আমাদের গ্রামের এই রাস্তাটি কি তাদের চোখে পড়ে না? আমরা কি কেবল ট্যাক্স দেওয়ার জন্য? আমাদের দুর্ভোগ দেখার কি কেউ নেই? প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা অবহেলিত এই জনপদকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি। এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি— অবিলম্বে ঢ্যামসাখালী ৪ নং ওয়ার্ডের এই সড়কটি পাকাকরণ বা টেকসই সংস্কারের ব্যবস্থা করে হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের আর্তনাদ লাঘব করা হোক।