
মোঃ মনিরুজ্জামান চৌধুরী নড়াইল প্রতিনিধি :
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার কলাবাড়িয়া, খাশিয়াল, বাঐশোনা, জয়নগর, মাউলী ও পহরডাঙ্গা ইউনিয়নের মানুষ কয়েক সপ্তাহ ধরে তীব্র তাপদাহ ও ভ্যাপসা গরমে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। দীর্ঘদিন বৃষ্টির দেখা না মেলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছিল। তবে অবশেষে বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন নড়াগাতীবাসী।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দিনের প্রখর রোদ ও রাতের অসহনীয় গরমে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। খাল-বিল, মাঠ-ঘাট ও গ্রামীণ জনপদজুড়ে বিরাজ করছিল এক অস্বস্তিকর পরিবেশ। আকাশে মাঝেমধ্যে কালো মেঘ জমলেও বৃষ্টির দেখা মিলছিল না। ফলে কৃষক, শ্রমিক, রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও দিনমজুরদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। বিশেষ করে টিনের ঘরে বসবাসকারী পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি কষ্টে ছিল। প্রচণ্ড গরমে ঘরের ভেতরও আগুনের চুল্লির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। একই সঙ্গে জ্বর, সর্দি, কাশি, ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতাসহ গরমজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। এ অবস্থায় সোমবার বিকেলে আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে গেলে শুরু হয় কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টিপাত। বৃষ্টির ছোঁয়ায় মুহূর্তেই বদলে যায় পরিবেশ। তাপমাত্রা কমে আসায় স্বস্তি ফিরে আসে মানুষের জীবনে। বৃষ্টিতে ভিজে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায় শিশু-কিশোরদের। কৃষকদের মুখেও ফুটে ওঠে হাসি।
পহরডাঙ্গা ইউনিয়নের কৃষক গিয়াস সিকদার বলেন, “অনেকদিন ধরে বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করছিলাম। অবশেষে বৃষ্টি হওয়ায় জমির জন্যও উপকার হবে, গরম থেকেও কিছুটা মুক্তি মিলল।” মাউলীর কৃষক রাসেল সরদার বলেন, “কয়েকদিন ধরে রোদে কাজ করতে খুব কষ্ট হচ্ছিল। আজকের বৃষ্টি অনেক স্বস্তি এনে দিয়েছে।” কলাবাড়িয়া থেকে মাউলী, জয়নগর থেকে বাঐশোনা—সবখানেই বৃষ্টিকে স্বাগত জানিয়েছেন মানুষ। দীর্ঘ তাপদাহের পর প্রকৃতির এই পরিবর্তনে স্বস্তি ফিরেছে নড়াগাতীর ছয় ইউনিয়নের জনজীবনে। যে নড়াগাতীবাসী কয়েকদিন আগেও বলছিলেন, “রোদ দে, বৃষ্টি দে, ছায়া দে—এই দহন থেকে মুক্তি দে”, সেই নড়াগাতীবাসীর মুখে এখন স্বস্তির হাসি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বৃষ্টির ছোঁয়ায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে জনপদ, ফিরে এসেছে স্বাভাবিক জীবনের আশা।














