![]()
খুলনা, ২৯ মার্চ ২০২৬ (নিজস্ব প্রতিবেদক):
খুলনার খুলনা মফস্বল প্রেসক্লাব–এর সম্মানিত সদস্যদের উদ্দেশ্যে সাংবাদিক সমাজে ঐক্যের অভাব ও পেশাগত দায়িত্ববোধ নিয়ে একটি আবেগঘন বক্তব্য প্রদান করেছেন সাংবাদিক মোসলেহ্উদ্দিন তুহিন।
তার বক্তব্যে তিনি বলেন, সমাজের অন্যান্য পেশায় পারস্পরিক সম্মান ও সহমর্মিতার একটি দৃঢ় সংস্কৃতি থাকলেও সাংবাদিক সমাজে মাঝে মাঝে তার ব্যতিক্রম দেখা যায়। একজন সাংবাদিক অন্যায় বা বিপদের মুখে পড়লেও অনেক ক্ষেত্রে সহকর্মীদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহায়তা পাওয়া যায় না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে বহু সাংবাদিক হামলা, নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়েছেন। কিন্তু এসব ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতা কিংবা অপূর্ণতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার অধরাই থেকে গেছে। এর পেছনে সাংবাদিকদের মধ্যকার বিভক্তি ও ঐক্যের অভাব একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে কাজ করছে বলে তিনি মনে করেন।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, সাংবাদিকতার মূল শক্তি সত্য, নৈতিকতা ও ঐক্য। একজন সাংবাদিক যখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে লেখেন, তখন তিনি কেবল নিজের জন্য নয়, বরং সমাজের ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেন। কিন্তু সেই সংগ্রামে যদি সহকর্মীদের সমর্থন না থাকে, তবে তা দুর্বল হয়ে পড়ে।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, কিছু ব্যক্তি নিজেদের প্রভাব বিস্তারের জন্য সহকর্মীদের অবমূল্যায়ন করেন, যা সাংবাদিকতার প্রকৃত আদর্শের পরিপন্থী। ব্যক্তিগত অহংকার নয়, বরং সম্মিলিত নৈতিক অবস্থানই সাংবাদিকতার আসল শক্তি—এ কথা তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন।
প্রচলিত প্রবাদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মিনমিনে বন্ধুর চেয়ে প্রকাশ্য শত্রু ভালো”—কারণ গোপন বিরোধিতা একটি সমাজকে ভিতর থেকে দুর্বল করে দেয়।
মোসলেহ্উদ্দিন তুহিন তার বক্তব্যে সাংবাদিকদের আত্মসমালোচনার আহ্বান জানান। তিনি প্রশ্ন তোলেন—সহকর্মী বিপদে পড়লে আমরা কি সত্যিই পাশে দাঁড়াই, নাকি নীরব দর্শক হয়ে থাকি?
তিনি বলেন, সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়, এটি সমাজের বিবেক। আর সেই বিবেক যদি বিভক্ত হয়ে যায়, তবে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়ে।
শেষে তিনি সাংবাদিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পারস্পরিক সম্মান, পেশাগত নৈতিকতা এবং ঐক্যের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। একজন সাংবাদিক বিপদে পড়লে মানবিকভাবে তার পাশে দাঁড়ানোই হওয়া উচিত প্রথম দায়িত্ব।
রাত ০১:১৫ মিনিটে প্রদত্ত এ বক্তব্যে তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং নিজের বক্তব্যে কোনো ত্রুটি থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার আহ্বান জানান।