সর্বশেষ:

নড়াইল–১ আসনে উৎসবমুখর প্রচারণা প্রচার প্রচারণায় এগিয়ে বিএনপি–জামায়াত, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পিছিয়ে

Facebook
Twitter
LinkedIn

মোঃ মনিরুজ্জামান চৌধুরী
নড়াইল প্রতিনিধি:

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নড়াইল–১ (৯৩) সংসদীয় আসনে নির্বাচনী প্রচারণা চলমান থাকলেও মাঠপর্যায়ে প্রার্থীদের সক্রিয়তায় স্পষ্ট বৈষম্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ আসনে মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বাস্তবতায় নির্বাচনটি মূলত কয়েকটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বলয়ের মধ্যেই আবর্তিত হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনীতি পর্যবেক্ষকরা।

সরেজমিনে কালিয়া উপজেলা ও নড়াগাতী থানার ইলিয়াসাবাদ, জয়পুর, চাঁচুড়ীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম ও বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা সংগঠিত ও পরিকল্পিত কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচনী মাঠে দৃশ্যমান অবস্থান তৈরি করেছেন। ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন, মাইকিংয়ের পাশাপাশি নিয়মিত পথসভা, উঠান বৈঠক ও ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের মাধ্যমে তারা প্রচারণা জোরদার করছেন।
অন্যদিকে স্বতন্ত্রসহ অপর ছয়জন প্রার্থীর প্রচারণা অনেক এলাকায় তেমন চোখে পড়েনি। কোথাও কোথাও তাদের উপস্থিতি নামমাত্র কিংবা প্রতীকী পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রয়েছে। ফলে সাধারণ ভোটারদের মাঝেও এসব প্রার্থীর কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে কম অনুভূত হচ্ছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈষম্যের প্রধান কারণ হলো সংগঠনিক সক্ষমতা ও মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতির পার্থক্য। বিএনপি ও জামায়াত দীর্ঘদিনের সংগঠনিক কাঠামো ও কর্মীভিত্তিক রাজনীতির সুবিধা কাজে লাগাতে পারলেও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কর্মী সক্রিয়তা, নিয়মিত জনসংযোগ এবং বার্তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছেন।

ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে মূল প্রতিযোগিতা বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে—এমন ধারণা এলাকায় বেশ প্রচলিত। অনেক ভোটারের মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, মাঠে দৃশ্যমান উপস্থিতি এবং ধারাবাহিক প্রচারণার কারণে এই দুই পক্ষ অন্যদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে।

নড়াইল–১ আসনে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমকে ঘিরে আলোচনা তুলনামূলকভাবে বেশি শোনা যাচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকায় সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত মুখ। বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ গড়ে তুলতে সহায়ক হয়েছে।

একাধিক রাজনৈতিক সূত্র জানায়, ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিএনপি ও জামায়াত কৌশলগতভাবে প্রচারণা সাজিয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলা, স্থানীয় সমস্যা সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরার মাধ্যমে তারা একটি সুসংগঠিত প্রচারণা কাঠামো দাঁড় করিয়েছে। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ, বসবাসযোগ্য ও উন্নত জনপদ গড়ে তোলার আশ্বাসও দিচ্ছেন প্রার্থীরা।

নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই নড়াইল–১ আসনে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত এই মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা ভোটের ফলাফলে কীভাবে প্রতিফলিত হবে, তা নির্ভর করবে ভোটারদের অংশগ্রহণ ও সিদ্ধান্তের ওপর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান প্রচারণা পরিস্থিতির প্রভাব সরাসরি ব্যালট বাক্সে পড়তে পারে।

Facebook
Twitter
LinkedIn

সর্বশেষ খবর

turan hossain rana