
খুলনার পাইকগাছায় তীব্র তাপদাহের মধ্যে চরম আকার ধারণ করেছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। দিন-রাত মিলিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলা এই অসহনীয় লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের জীবন। একদিকে তীব্র গরম, অন্যদিকে বিদ্যুতের এই লুকোচুরি—সব মিলিয়ে এলাকাবাসীর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। ক্ষুব্ধ নাগরিকেরা এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (সোশ্যাল মিডিয়া) তাদের তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করছেন। জনৈক ফেইসবুকে লিখেছেন,পাইকগাছা পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তারা কি সাধারণ মানুষের ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছেন?
২৪ ঘণ্টায় বিদ্যুৎ থাকে মাত্র কয়েক ঘণ্টা!
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিন কিংবা রাত—কোনো নিয়ম ছাড়াই যখন-তখন বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি সময় বিদ্যুৎহীন থাকছে এলাকা। বিশেষ করে রাতে দফায় দফায় লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষ ঘুমাতে পারছেন না। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা লোডশেডিংয়ের কারণে রাতে মোমবাতি বা চার্জার লাইট জ্বালিয়ে পড়তে হচ্ছে। ব্যবসায়ী মামুনুর কম্পিউটারের সত্বাধিকারী শেখ মামুনুর রশিদ বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে রাখা নষ্ট হচ্ছে কাঁচামাল ও মাছ-মাংস। ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য। অপরদিকে তীব্র গরমে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী এবং শিশুরা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের এমন উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ পাইকগাছাবাসী ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় তুলেছেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি ১৫ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ না থাকে, তাহলে এটাকে লোডশেডিং বলে না, একে বলে 'লোডশেডিংয়ের মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ দেওয়া'। আমরা কি আদিম যুগে ফিরে যাচ্ছি?" অনেকেই বলছেন বিল দেওয়ার সময় একদিন দেরি হলে জরিমানা নেওয়া হয়, কিন্তু ঠিকমতো বিদ্যুৎ না দিলে তার জরিমানা কে দেবে? এই তীব্র গরমে রাতে ঘুমাতে না পেরে বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের এসি রুমে বসে সাধারণ মানুষের কষ্ট বোঝার কথা নয়।"
অনেকেই আবার বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং দ্রুত এই সমস্যার সমাধানের দাবি জানিয়েছেন উপজেলাবাসী। এই বিষয়ে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের (পল্লী বিদ্যুৎ)পাইকগাছা জোনাল অফিসের ডিজিএম অঞ্জন সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন জাতীয় গ্রিডে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম এবং কারিগরি ত্রুটি"র কারনে এমনটাই হচ্ছে। তবে কবে নাগাদ এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস দিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। পাইকগাছাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এই কৃত্রিম বা অন্যায্য লোডশেডিং বন্ধ করে এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক, যাতে সাধারণ মানুষ এই চরম দুর্ভোগ থেকে রেহাই পায়।