এস,এম,আলাউদ্দিন সোহাগ,পাইকগাছা ( খুলনা ) ।
রাত যত গভীর হয়, ততই যেন বাড়তে থাকে এক অসহায় বাবার বুকফাটা দীর্ঘশ্বাস, সেই দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে উঠে পাইকগাছার আকাশ-বাতাস। ভাঙা চালের ফাঁক গলে টপটপ করে বৃষ্টির পানি পড়ে তার নিথর শরীরে। ঘরের এক কোণে নীরবে চোখের জল ফেলেন স্ত্রী। কিন্তু কিছুই করার ক্ষমতা নেই সেই মানুষটির। কারণ, যে মানুষটি একসময় নিজের দুই পায়ে দাঁড়িয়ে পরিবারকে আগলে রেখেছিলেন, আজ তিনি দু" পা হারিয়ে শুয়ে আছেন মাটির বিছানায়। এই দৃশ্য শুধু একটি পরিবারের কষ্ট নয়—এ যেন মানবতার বুক চিরে ওঠা এক নীরব আর্তনাদ। খুলনার পাইকগাছা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের ওয়াপদা এলাকায় আজ যেন বাতাসও ভারী হয়ে আছে টিটু সরদারের পরিবারের কান্নায়।
একসময় দিন-রাত পরিশ্রম করে সংসারের হাল ধরতেন টিটু সরদার। নিজের কষ্ট ভুলে সন্তানদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করতেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম নিষ্ঠুরতায় জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে তার দু"টি পা পচে যায়। পরে জীবন বাঁচাতে চিকিৎসকদের বাধ্য হয়ে সেই পা দুটি কেটে ফেলতে হয়। সেই দিন শুধু তার শরীরের অংশ হারায়নি—ধসে পড়েছে একটি পরিবারের সব স্বপ্ন, সব ভরসা।আজ টিটু সরদারের সংসারে নেই কোনো উপার্জনের পথ। অনেক দিন চুলা জ্বলে না ঘরে। নিজের চোখের জল আড়াল করতে মুখ ফিরিয়ে নেন, কিন্তু বুকের ভেতরের আর্তনাদ থামে না।
স্থানীয়রা জানান, নিজের এই অসহায়ত্ব আর পরিবারের কষ্ট সহ্য করতে না পেরে টিটু সরদার দুইবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। কারণ, তিনি নিজেকে আজ পরিবারের “বোঝা” মনে করেন। তবে প্রতিবেশীদের তৎপরতায় বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেলেও, তার মনের ভেতরের অন্ধকার এখনো কাটেনি।এর আগে এলাকার কিছু হৃদয়বান মানুষের সহায়তায় তার অপারেশন সম্পন্ন হয়। কিন্তু অপারেশনের পরও জীবন স্বাভাবিক হয়নি। এখনো ভাঙা চালের নিচে বৃষ্টি, শীত আর অভাবের সঙ্গে যুদ্ধ করেই কোনোভাবে দিন কাটছে পরিবারটির।
আজ এই পরিবারটির সবচেয়ে বড় প্রয়োজন একটি নিরাপদ থাকার ঘর এবং পরিবারের জন্য একটি ছোট আয়ের ব্যবস্থা। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী ও মানবিক মানুষদের সহযোগিতা পেলে হয়তো আবারও বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারবে পরিবারটি।কারণ, একটি মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানে শুধু একজনকে সাহায্য করা নয়—একটি ভেঙে পড়া পরিবারকে নতুন করে বাঁচার সাহস দেওয়া।মানবিক সহায়তার জন্য যোগাযোগ -টিটু সরদার — 01701349980