
খুলনার পাইকগাছা পৌরসভার সরল গ্রামের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা, বিশিষ্ট আঞ্চলিক কবি, শিক্ষক, নাট্যকার ও সাহিত্যিক মুনছুর হাসান (৭০) স্ট্রোকজনিত কারনে সোমবার রাতে ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার সকালে জানাজা নামাজ শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
মুনছুর হাসান ১৯৫৬ সালের ২২ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মৃত কোনাই গাজী ও মোছাঃ মাদারুন্নেসার সন্তান। শিক্ষাজীবনে তিনি পাইকগাছা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৭২ সালে এসএসসি, পাইকগাছা কলেজ থেকে ১৯৭৪ সালে এইচএসসি এবং ১৯৮৫ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনে তিনি দীর্ঘদিন পাইকগাছা টাউন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখেন। তাঁর সহধর্মিণী ছায়েরা খাতুন, কন্যা সুজানা নাসরীন হীরা এবং পুত্র শাহরিয়ার আজমীর সোহান তাঁর সাহিত্য সাধনায় গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন।

মুনছুর হাসানের লেখা স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি বিভিন্ন সম্মাননা লাভ করেন। পাইকগাছা উপজেলা পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত এক সংবর্ধনায় তিনি ‘শ্রেষ্ঠ আঞ্চলিক কবি’ উপাধিতে ভূষিত হন। এছাড়া বাংলাদেশ কবি পরিষদ তাঁকে ‘প্রকৃতির কবি’ উপাধি প্রদান করে। পাইকগাছা নাগরিক সমাজ, অংকুর পরিষদ, সুকান্ত সাংস্কৃতিক পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন তাঁকে সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান করে। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘স্মৃতির নীল পদ্ম’, ‘বিশ্বরূপের বাংলাদেশ’ এবং ‘দানবীর মেহের মুসল্লির জীবনী ’। তিনি পাইকগাছা মৌচাক সাহিত্য সংসদের সভাপতি, কপোতাক্ষ সাহিত্য পরিষদের নির্বাহী সম্পাদক, সাহিত্য দর্পণের আঞ্চলিক প্রতিনিধি এবং সরল দীঘির পাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চারবার নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন। এছাড়া তিনি গাঙচিল সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির আজীবন সদস্য ও পাইকগাছা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তার জানাজায় সাবেক পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও সাবেক কাউন্সিলর এস এম এমদাদুল হক, সহকারি অধ্যাপক জি এম এম আজহারুল ইসলাম,জামায়াতে ইসলামীর সমর্থিত পৌর মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোর্তজা আলমগীর রুলু, পৌর জামায়াতের আমির ডা. আসাদুল ইসলাম, শেখ আনিছুর রহমান মুক্ত, কবি এমদাদ হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। আঞ্চলিক সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে তাঁর অবদান পাইকগাছাবাসীর কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।