পাইকগাছা ( খুলনা) প্রতিনিধি।
পাইকগাছার ৩ টি অবৈধ ইটভাটা এবং ৬০ টি কয়লা চুল্লী গুড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বে পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন ২১ জানুয়ারি বুধবার দিনভর উপজেলার চাঁদখালীতে ইটভাটা ও কয়লা চুল্লীতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এসময় পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র সহ বৈধ কোন কাগজপত্র না থাকায় বুল ডোজার দিয়ে ৩ টি ইটভাটা এবং ৫৫ থেকে ৬০ টি কয়লা চুল্লী ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিস ও পল্লী বিদ্যুৎ সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনার সহকারী পরিচালক হারুন অর রশীদ ও পাইকগাছার সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ ফজলে রাব্বী।
উল্লেখ্য অত্র উপজেলায় প্রায় ২০ টির মতো ইটভাটা ও দেড় শতাধিক কয়লা চুল্লী রয়েছে। বেশিরভাগ ইটভাটা ও কয়লা চুল্লীর কোনটার পরিবেশ ছাড়পত্র সহ বৈধ কোন কাগজপত্র নেই। এলাকার কৃষি জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে বেশিরভাগ ইটভাটা। ফলে কৃষি ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কোন কোন ইটভাটা কপোতাক্ষ নদের খননকৃত মাটি রাতের আঁধারে ইটভাটায় সরবরাহ করা হয় এমন অভিযোগ রয়েছে। আবার কোন কোন ইটভাটায় ফসলী জমির মাটি সরবরাহ করা হয়। কোন কোন ইটভাটায় কয়লার সাথে জালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার করে এমন অভিযোগ ও রয়েছে ইটভাটা গুলোর বিরুদ্ধে।
অনুরূপভাবে চাঁদখালীর বিভিন্ন স্থানে অবাধে গড়ে উঠেছে অসংখ্য কয়লা চুল্লী। এসব চুল্লী তে কাঠ পুড়িয়ে তৈরি করা হয় কয়লা। কৃষি ফসল উৎপাদন হৃাস পাওয়ার পাশাপাশি মারাত্মকভাবে পরিবেশ দূষণ করছে ইটভাটা ও কয়লা চুল্লী। কয়লা চুল্লীর কালো ধোঁয়ায় স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে এলাকার সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে শিশু, অসুস্থ ও বয়স্ক মানুষ চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে। ইটভাটা ও কয়লা চুল্লীর বিরুদ্ধে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী।