
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদী তীরবর্তী আশপাশের ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের ফলে কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের মুন্সির বাজার সংলগ্ন বৈরাতী চর এলাকার কয়েক একর ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া হুমকির মুখে রয়েছে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর। নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে ওই এলাকার বেশ কিছু বসতবাড়ি। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ফসলি জমির বালি ও মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে বুলু নামে একটি সিন্ডিকেট মহল। নদী থেকে কয়েকশ গজ দুরে থাকা সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ পুরো তিস্তা নদী তীরবর্তী বৈরাতী গ্রাম নদীতে বিলীন হওয়ার আতঙ্কে রয়েছেন আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারী বাসিন্দা ও স্থানীয় লোকজন।
কাশীরাম ও বৈরাতী চরের বাসিন্দা রিপন মিয়া বলেন, তিস্তা নদীর ভাঙনের কারণে আমার তিনবার বাড়ি ঘর তিস্তার পেটে চলে যায়। এবার আমি সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পে একটি ঘর পেয়েছি। কিন্তু নদী থেকে যেভাবে বালু উত্তোলন হচ্ছে এতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর ভেঙ্গে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় বুলু নামে এক সিন্ডিকেট চক্র অবৈধভাবে বালু ও মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। পেয়ারা বেগম বলেন, একটি প্রভাবশালী মহল যেভাবে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে এতে আমরা চরম বিপদে রয়েছি। দ্রুত বালু উত্তোলন বন্ধ করা না গেলে বাড়ি ঘর সহ ফসলি জমি রক্ষা করা সম্ভব হবে না। ক্ষতিগ্রস্তরা বৈরাতী চরের বাসিন্দারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে চাষাবাদের জমি রক্ষার দাবি জানিয়েছেন তারা। অবৈধ বালু উত্তোলন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।