মোঃ শামীম শেখ, বটিয়াঘাটাঃ
ফাল্গুনের আগমনে বটিয়াঘাটা উপজেলা যেন এক অনির্বচনীয় রূপে সেজে উঠেছে। শীতের নির্জীবতা কাটিয়ে প্রকৃতি এখন প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর। চারদিকে সবুজের ভেতর সোনালি আভা ছড়িয়ে দিচ্ছে আমের মুকুল। গাছে গাছে ফুটে ওঠা এই মুকুল শুধু ঋতু পরিবর্তনের বার্তাই নয়, বরং গ্রামীণ জীবনে এনে দিয়েছে নতুন আশা ও আনন্দের সুর।
উপজেলার সাতটি ইউনিয়নজুড়ে এখন একই দৃশ্য, আম গাছের ডাল ভরে আছে মুকুলে। জলমা, বটিয়াঘাটা সদর, সুরখালি, গঙ্গারামপুর, বালিয়াডাংগা, ভান্ডারকোট, আমিরপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ভোরের প্রথম আলোয় মুকুলের ঝলকানি যেন চোখে পড়ার মতো। শিশিরভেজা সকাল আর হালকা বাতাসে মিশে থাকা মুকুলের ঘ্রাণ গ্রামবাংলার চিরচেনা অনুভূতিকে আরও তীব্র করে তুলছে।
গরিয়ারডাঙ্গা এলাকার জানান, বছরের এই সময়টিতে প্রকৃতি যেন নিজেই এক উৎসবের আয়োজন করে। গ্রামের পথঘাট, বাড়ির উঠান কিংবা বাজারের আশপাশ, সবখানেই মুকুলের সুবাস ছড়িয়ে আছে। কৃষক ও বাগান মালিকরা গাছের দিকে তাকিয়ে স্বপ্ন দেখছেন ভালো ফলনের। কারণ আমের মুকুল মানেই ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ফলনের পূর্বাভাস।
বটিয়াঘাটা উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আজমল হোসেন লিটন বলেন, ফাল্গুনের আগমনী বার্তায় পুরো উপজেলায় আমগাছে মুকুলে ছেয়ে গেছে। প্রকৃতি যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। চারদিকে মুকুলের ঘ্রাণ আর সবুজের সমারোহ সত্যিই মন ছুঁয়ে যায়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ বছর আমের ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা কৃষকদের জন্য সুখবর হয়ে আসবে।
বটিয়াঘাটা অঞ্চলের বিশিষ্ট সাংবাদিক তুরান হোসেন রানা বলেন, বসন্ত কেবল একটি ঋতুর নাম নয়, এটি অনুভূতির, আবেগের এবং নবজাগরণের প্রতীক। আমের মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ মানুষের হৃদয়ে জাগিয়ে তোলে শৈশবের স্মৃতি, গ্রামীণ জীবনের সরল সৌন্দর্য এবং আগামীর স্বপ্ন।
তিনি আরও বলেন, এ সময় বটিয়াঘাটার মাঠ-ঘাট, পথঘাট ও জনপদ যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। চারদিকে বসন্তের রঙিন আবহ ছড়িয়ে পড়ে, প্রকৃতি সেজে ওঠে আপন মহিমায়। প্রতিটি মুকুল নীরবে জানান দেয়, প্রকৃতির চিরন্তন সৌন্দর্য এখনও অমলিন, এখনও জীবন্ত।