
খুলনার পাইকগাছায় ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে মশক নিধন ও বর্জ্য অপসারণ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। বুধবার (১০ জুন, ২০২৬) বিকাল ৫টায় পাইকগাছা পৌরসভা ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। অভিযানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা লালু সরদার। এছাড়া ব্র্যাকের প্রতিনিধি, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয়রা অংশ নেন।

অভিযান চলাকালে পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক, ড্রেন, নালা ও আবর্জনার স্থান পরিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা ধ্বংসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রচারণা কার্যক্রমও পরিচালিত হয়। পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা লালু সরদার বলেন, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, টব, পরিত্যক্ত টায়ার, ভাঙা পাত্র, ড্রাম, ডোবা, নালা-নর্দমা ও জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা দ্রুত বংশবিস্তার করে। অন্যদিকে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে জন্ম নেয় বিভিন্ন প্রজাতির মশা, যা ম্যালেরিয়াসহ নানা রোগ ছড়াতে ভূমিকা রাখে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন। মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেক মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন এবং চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। কিছু ক্ষেত্রে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। তাই শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ নয়, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণও অত্যন্ত জরুরি বলে মত দেন সংশ্লিষ্টরা।
ইউএনও ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, মশক নিধন কার্যক্রমকে সফল করতে হলে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও যেন তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। একটি সচেতন সমাজই পারে ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ করতে। নীয়রা এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে নিয়মিত এ ধরনের অভিযান চালানোর আহ্বান জানান।