সর্বশেষ:

মেলার অপেক্ষায় পাইকগাছার কুমারপাড়া ; রং-তুলিতে প্রাণ ফিরছে মৃৎশিল্পে

Facebook
Twitter
LinkedIn

এস,এম,আলাউদ্দিন সোহাগ,পাইকগাছা ( খুলনা ) থেকে।।

বাংলার লোকজ উৎসব চৈত্র সংক্রান্তি আর বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে ব্যস্ততার শেষ নেই খুলনার পাইকগাছার মৃৎশিল্পীদের। উপজেলার বোয়ালিয়া পাল পাড়ায় এখন নাওয়া-খাওয়ার ফুসরত নেই কুমার পরিবারের সদস্যদের। মাটির মণ্ড তৈরি থেকে শুরু করে খেলনা পুড়ানো- সব ধাপ পেরিয়ে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের তুলির আঁচড়।
উৎসবের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত পাল পাড়া সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বোয়ালিয়া পাল পাড়ার প্রায় ১৫টি পরিবারের নারী-পুরুষ ও শিশুরা একযোগে কাজ করছেন। বাড়ির উঠান জুড়ে রোদে শুকানো হচ্ছে হরেক রকমের খেলনা ও তৈজসপত্র। চৈত্র সংক্রান্তির গদাইপুর বারণী মেলা সহ আশপাশের গ্রামীণ মেলাগুলোকে কেন্দ্র করে মাটির ব্যাংক, মশার কয়েলদানি, সানকি, কলসি ও ফুলের টবের পাশাপাশি শিশুদের জন্য তৈরি হয়েছে চমৎকার সব হাতি, ঘোড়া, ময়ূর, নৌকা এবং ছোট ছোট হাঁড়ি-পাতিল।

জীবনযুদ্ধের মাঝে টিকে থাকার লড়াই মৃৎশিল্পী তারক পাল ও সাধনা রানী পালের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমান সময়ে প্লাস্টিক পণ্যের দাপটে সারা বছর মাটির জিনিসের চাহিদা তলানিতে গিয়ে ঠেকে। তবে চৈত্র ও বৈশাখ মাসে চিত্রটা পাল্টে যায়। সাধনা রানী জানান, তিনি ও তাঁর স্বামী মিলে প্রায় ৫০০টি খেলনা তৈরি করেছেন, যা মেলায় ১০ থেকে ২৫ টাকা দরে বিক্রি হবে। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে তাদের এই কর্মযজ্ঞ।

আধুনিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মৃৎশিল্পী রামপদ পাল বলেন, “প্লাস্টিকের ভিড়ে মাটির জিনিসের কদর কমলেও পূজা-পার্বণ ও মেলার সময় আমরা আশার আলো দেখি। সারা বছরের উপার্জনের বড় একটা অংশ আসে এই এক মাসে। মেলায় প্রতিটি খেলনা ২৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি।”
ঐতিহ্য রক্ষায় প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগ এক সময় বাংলার ঘরে ঘরে মাটির তৈজসপত্রের ব্যবহার থাকলেও এখন তা কেবল শো-পিস বা মেলাকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। গ্রামীণ এই ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো মৃৎশিল্প। কিন্তু কাঁচামাল ও রঙের দাম বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্লাস্টিক পণ্যের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছেন এই কারিগররা।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গ্রামীণ মেলার এই চিরচেনা রূপ এবং কারিগরদের নিপুণ হাতের কারুকাজ টিকিয়ে রাখতে হলে এই শিল্পীদের সরকারি অনুদান ও উন্নত প্রশিক্ষণের আওতায় আনা জরুরি। তবেই পাইকগাছার এই মৃৎশিল্প তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে লোকজ ঐতিহ্যের বার্তা পৌঁছে দেবে।

Facebook
Twitter
LinkedIn

সর্বশেষ খবর

পাইকগাছায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ৫ তলা বিশিষ্ট উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন ; বিদ্যুতের কারণে আটকিয়ে আছে হস্তান্তর প্রক্রিয়া, ভাড়া বাড়িতে চলছে বিভিন্ন অফিসের কার্যক্রম : ব্যহত হচ্ছে জনসেবা

turan hossain rana