
জি এম শামীম, বটিয়াঘাটা খুলনা:
বটিয়াঘাটা উপজেলার সুরখালী ইউনিয়ন এখন মাদকের করাল গ্রাসে বিপর্যস্ত। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রকাশ্যে গড়ে উঠেছে মাদক বিক্রি ও সেবনের আড্ডা। সুন্দরমহল এলাকায় বালির মাঠ, বাংলালিংক টাওয়ার সংলগ্ন এলাকা, মাদ্রাসা ও প্রাইমারি স্কুল মাঠে, উত্তর পাড়া, পশ্চিম মাথায় জালিয়াখালী রাস্তার সুইচগেট এর উপর, মধ্যপাড়া, মঠবাড়ি, কোদলা, শম্ভুনগর,বারোআড়িয়া চৌমুহনা, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে নদীর ধারে, ঠাকুর বাড়ির পিছনে একটি লকালয়, বাজারের পশ্চিম মাথায় একটি বিল ও চরের ভিতর। বারোআড়িয়া পুরাতন ওয়াপদা রাস্তার গেট সংলগ্ন এলাকায় বিচরণ। উঠতি বয়সের কিশোর-কিশোরীদের একটি অংশ জড়িয়ে পড়ছে ইয়াবা, গাঁজা ও ফেন্সিডিলের মতো মাদকে। এর সঙ্গে সক্রিয় রয়েছে কিছু জুয়াড়ি চক্র ও স্থানীয় দুষ্কৃতকারী গোষ্ঠী। বাসিন্দারা জানান, সন্ধ্যার পর নির্জন সড়ক, বাজার সংলগ্ন এলাকা ও খেলার মাঠের পাশে বসে মাদকের আসর।
কিশোরদের ব্যবহার করা হচ্ছে ‘ডেলিভারি বয়’ হিসেবে। এতে অল্প বয়সেই তারা অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। অভিভাবকদের অনেকেই আতঙ্কে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক। একাধিক সূত্রের দাবি, মাদক ব্যবসার পেছনে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে। তাদের ছত্রছায়ায় ছোট ছোট গ্রুপ গড়ে উঠেছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান হলেও কিছুদিন পর আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে চক্রটি। স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহল বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে আগামী প্রজন্ম মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেশার প্রবণতা বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে পড়াশোনা ও সামাজিক আচরণে। ইতোমধ্যে চুরি, ছিনতাই ও মারামারির মতো ঘটনা বেড়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, নিয়মিত অভিযান ও টহল জোরদার মাদক কারবারিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কিশোরদের জন্য ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বৃদ্ধি অভিভাবক ও সমাজপতিদের সমন্বিত উদ্যোগ এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী বলেন, এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে সুরখালী ইউনিয়ন মাদকের স্থায়ী আখড়ায় পরিণত হবে।মাদকমুক্ত সুরখালী গড়তে প্রয়োজন প্রশাসন ও জনসাধারণের সম্মিলিত উদ্যোগ।















