এইচ এম সাগর (হিরামন) খুলনা :
খুলনা জেলায় এবার চলতি মৌসুমে সজিনা চাষে দেখা গেছে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা। মাঠে মাঠে বাড়ির আঙ্গিনায় ও বাগানে এখন চোখে পড়ে সাদা ফুলে ভরা সজিনা গাছ। চারিদিকে যেন ফুলের সমারোহ। গাছের প্রতিটি ডাল পলা সাদা ফুলের ছেয়ে গেছে। এমন দৃশ্য কৃষকের মনে জাগিয়েছে নতুন আশার আলো। স্থানীয় কৃষকরা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবছর সজিনার গাছে ব্যাপক পরিমাণে ফুল এসেছে। ফুলের অধিক্যই ইঙ্গিত দিচ্ছে ভালো ফলনের। কৃষকদের প্রত্যাশা, এবার ফলন যেমন বেশি হবে, তেমনি বাজার দরও থাকবে সন্তোষজনক। একাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মৌসুমের শুরুতেই প্রতি কেজি সজিনা ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। মৌসুমীর শেষ দিকে সরবরাহ বেড়ে গেলেও দাম কিছুটা কমে ৫০ থেকে ১০০ টাকা নেমে আসে। তবে উৎপাদন ভালো হলে মোট মৌসুমে বিক্রির পরিমাণ বাড়ে, ফলে কৃষকের লাভও বেশি হয়। কৃষিবিদ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সজিনা এখন শুধু সবজি নয়,পুষ্টিগুনের কারণে এটি সুপার ফুড হিসেবেও পরিচিত।
দেশের পাশাপাশি বিদেশেও সজিনার চাহিদা বাড়ছে। ফলে দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে সজিনা চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে দিন দিন। স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আগাম ফুলোকোসি ডাটা দেখে পাইকাররাও আগ্রহী হয়ে উঠছেন। অনেকে কৃষকদের কাছ থেকে সজিনা গাছ অগ্রিম কিনে নিচ্ছেন।খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর উপ-পরিচালকমো: নজরুল ইসলাম বলেন, সজিনাকে ‘পুষ্টির ডিনামাইট’ বলা হয়। সজিনা শরীরের রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে। শরীর থেকে বিষাক্ত দ্রব্য, ভারি ধাতু অপসারণ করে।সজিনা প্রায় ৩০০ রকমের রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে। সজিনার বাকল, শিকড়, ফল, পাতা, বীজ এমনকি ফুলেও ঔষধিগুণ আছে। সজিনা খুলনাঞ্চলের একটি জনপ্রিয় সব্জী।
অনাবাদী পতিত জমি ও রাস্তার পাশে বারমাসী সজিনা সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। খুলনা জেলার ৯টি উপজেলায় ৩০০ হেক্টর জমিতে সজিনা গাছ চাষ করা হয়েছে। গ্রাম অঞ্চলে প্রতিটা বাড়িতে সজিনা গাছ রয়েছ। তিনি আরো বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে সজিনা চাষে রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন হতে পারে। সব মিলিয়ে সাদা ফুলে ভরা সজিনা গাছ যেন খুলনা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গ্রামবাংলায় এনে দিয়েছে এক নতুন সম্ভাবনার বার্তা। ভালো ফলন, ভালো দাম আর কৃষকের মুখে প্রশস্ত।