এইচ এম সাগর (হিরামন) খুলনা :
খুলনার বটিয়াঘাটা থানার বহুল আলোচিত মস্তকবিহীন সালেহা বেগম হত্যা মামলার পলাতক আসামি সিজার মোল্লাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ বুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) খুলনা। গত ১লা মার্চ ২০২৬ তারিখ ঢাকার হাতিরঝিল থানাধীন মগবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বটিয়াঘাটা থানায় মামলা নম্বর ০৯, তারিখ ২০ আগস্ট ২০২৫ ধারা ৩২০/২০১/৩৪ পেনাল কোডে দায়ের হওয়া মামলার তদন্তে যারা যায়, ভিকটিম সালেহা বেগম ও প্রধান আসামি লালন গাজীর বাড়ি ডুমুরিয়া এলাকায়। সালেহা বেগম পূর্বে সৌদি আরবের গৃহিনী হিসেবে কর্মরত ছিল। দেশে ফেরার পর তিনি লালন গাজীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, লালন গাজীর ভেকু গাড়ি পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানি থানায় ভাড়ায় চলাকালে তিনি সালেহাকে স্ত্রীর পরিচয় সেখানে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। লালন পূর্ব থেকে বিবাহিত ছিল। এ সময় কৌশলে তিনি সালেহার ব্যাংকে জমাকৃত প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে বিয়ে রেজিস্ট্রি না করায় সালেহা বেগম লালনের উপর বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে এবং তার বাড়িতে স্ত্রীর মর্যাদার ওঠার কথা জানায়। এতে লালন গাজী তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে বলে তদন্তে উঠে আসে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৯ আগস্ট ২০২৫ তারিখ সন্ধ্যায় সালেহা বেগমকে বেড়ানোর কথা বলে বটিয়াঘাটা থানার ৪ নং- সুরখালী ইউনিয়নের গজালিয়া গ্রামে তার আত্মীয়র বাসায় নিয়ে যায় লালন গাজী। সেখানে লালন ও তার মামাতো ভাই সিজার মোল্লা তাকে হত্যা করে। পরিচয় গোপন এর উদ্দেশ্যে মরদেহের পরিধেয় বস্ত্র খুলে ফেলে এবং মাথা বিচ্ছিন্ন করে।
পরে মাথা, মরদেহ, পোশাক, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও হত্যাকাণ্ডের ব্যাহত আলামত নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রধান আসামি লালন গাজীকে গ্রেফতার করে পিবিআই এবং আদালতে সোপর্দ করা হয়। তবে সিজার মোল্লা দীর্ঘদিন পলাতক ছিল। পিবিআই প্রধান মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল, এডিশনাল আইজিপি'র তত্ত্বাবধাযন ও পিবিআই খুলনা জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন, পিপিএম সেবা'র নেতৃত্বে একটি চৌকস দল ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ সহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করেন। অত্যন্ত ধুরন্ধর প্রকৃতির সিজার মোল্লা কোন মোবাইল ব্যবহার করতো না এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত না বলে জানায় তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। অবশ্যই দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে গত ১লা মার্চ ২০২৬ তারিখ তাকে মগবাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তার দেখানো মতে সালেহা বেগমকে হত্যায় ব্যবহৃত গজালিয়া এলাকা থেকে একটি হাসুয়া উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে সিজার মোল্লাকে আদালতে সোপর্দ করলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেন। এ ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে পিবিআই সূত্রে জানা গেছে।