সর্বশেষ:

ভাঙা ইট আর কাদার মর্মান্তিক সড়ক: পাইকগাছার মানুষের দৈনন্দিন জীবন ঝুঁকির মুখে

Facebook
Twitter
LinkedIn

এস,এম,আলাউদ্দিন সোহাগ,পাইকগাছা ( খুলনা )

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার লস্কর থেকে কড়ূলিয়া পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ গ্রামীণ সড়কটি দীর্ঘদিনের অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মানুষের জন্য মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক ও ব্যবসায়ী—প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করছেন, কিন্তু ভাঙা ইট আর কাদায় ভরা এই রাস্তা তাদের প্রতিদিনের যাত্রাকে করে তুলেছে এক ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা।

লস্কর গ্রামের ঈদগাহ মাঠ থেকে নিজাম সরদারের বাড়ি হয়ে কড়ূলিয়া অভিমুখী এই সড়কটি বর্ষায় কাদা-মাটির সমুদ্র এবং বিশাল গর্তে পরিণত হয়। শুকনো মৌসুমে ধূলিকণা বিস্তার করে শিশু, বৃদ্ধ ও রোগীদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এটি শুধু চলাচলের মাধ্যম নয়; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি উৎপাদন এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের মূল সংযোগ।

বর্ষার দিনে শিক্ষার্থীরা কাদা-মাটির মধ্যে দিয়ে স্কুলে পৌঁছলেও পোশাক নষ্ট হওয়ার কারণে মানসিক কষ্ট ভোগ করেন। জরুরি রোগী পরিবহনও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে; অ্যাম্বুলেন্স বা ভ্যান দিয়ে চলাচল করা বিপজ্জনক। কৃষক ও ব্যবসায়ীরাও সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে চরম ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা নিজাম উদ্দীন সরদার অভিযোগ করেছেন, “ভোটের সময় অনেক প্রতিশ্রুতি শোনা গেল, কিন্তু নির্বাচনের পর আমাদের কথা ভুলে যায়। বহুবার আবেদন করেছি, কিন্তু কেউ দেখেনি।” রাফেজ মাহমুদ অভিযোগ করেন, “দীর্ঘদিন অবহেলিত এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করছে। সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।” হযরত আলী বলেন, “ভ্যান, সাইকেল, মোটরসাইকেল—কেউই সড়ক দিয়ে নিরাপদে চলাচল করতে পারছে না। দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজন।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই দীর্ঘদিন অবহেলিত গ্রামীণ সড়কগুলো কেবল মানুষের জীবনমানকে বিপন্ন করছে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতি ও কৃষি উৎপাদনকেও প্রভাবিত করছে। নিরাপদ সড়ক না থাকায় ফসল বাজারে পৌঁছানো ও ব্যবসায়িক লেনদেন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয়রা জোর দাবি জানিয়েছেন, এটি কোনো বিলাসিতা নয়; বরং তাদের ন্যায্য অধিকার। সরকার দ্রুত হস্তক্ষেপ না করলে চলাফেরার নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি অব্যাহত থাকবে।

দীর্ঘদিনের অবহেলা ও উপেক্ষার কারণে এই গ্রামীণ সড়কটি জনজীবনের এক বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষা-শুকনো মৌসুম—উভয়েই এটি স্থানীয়দের জন্য এক জীবনের লড়াই। তাই সরকারি তত্ত্বাবধানে অবিলম্বে পাকা ও নিরাপদ সড়ক নির্মাণ করা এখন সময়ের দাবি, নাহলে প্রতিদিনের যাতায়াত মানুষের জীবন ও অর্থনীতিকে বিপন্ন করে চলবে।

লস্কর ইউপি চেয়ারম্যান ( ভারপ্রাপ্ত ) বলেন,রাস্তাটি আসলেই অবহেলিত আমি জানি। আগামীতে বরাদ্দ পেলে সর্বপ্রথম ওই রাস্তায় প্রথম কাজ করা হবে।

Facebook
Twitter
LinkedIn

সর্বশেষ খবর

turan hossain rana