
নিজস্ব প্রতিবেদক,(খুলনা):
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নের ৮৮নং টেংরামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বর্তমানে চরম অবহেলা ও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিদ্যালয়ের টিনের ছাউনি ভেঙে ও ফেটে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে, ফলে ব্যাহত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম।
স্থানীয় এলাকায় প্রাথমিক শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে ১৯৭৬ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি সরকার বিদ্যালয়টিকে জাতীয়করণ করে। তবে জাতীয়করণের এক দশকেরও বেশি সময় পার হলেও প্রতিষ্ঠানটিতে উল্লেখযোগ্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের টিন ও অ্যাসবেস্টস দিয়ে নির্মিত টিনশেড ভবনের অধিকাংশ ছাউনি নষ্ট হয়ে গেছে। কোথাও টিনে বড় ফাটল, কোথাও আবার টিন খুলে পড়ার উপক্রম হয়েছে। বাঁশের খুঁটি দিয়ে কোনোভাবে ছাউনিটি ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে। বারান্দার অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে এবং ইটের গাঁথুনি দুর্বল হয়ে পড়েছে।
আকাশ মেঘলা হলেই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। বৃষ্টির সময় শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে বই-খাতা ভিজে যায়। অনেক সময় পাঠদান বন্ধ রেখে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বাধ্য হন শিক্ষকরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন,
“বাচ্চাদের স্কুলে পাঠিয়ে আমরা সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকি। যেকোনো সময় টিনের ছাউনি ভেঙে পড়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বৃষ্টির দিনে স্কুল ভবন একেবারেই নিরাপদ থাকে না।”
অভিভাবকরা দ্রুত ভবন সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে জরাজীর্ণ টিনশেড ভবনটি দ্রুত সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণ করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগই পারে এ এলাকার শিশুদের জন্য নিরাপদ ও উপযোগী শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে।