
খুলনার পাইকগাছায় ইট ও মাটি বহনকারী ট্রাক্টর ও ভেকু সহ ভারী যানে ধ্বংস হচ্ছে সরকারি রাস্তা। উপজেলার চাঁদখালীর দেবদুয়ার শাহপাড়া এলাকার এলাকাবাসীর যাতায়াতের একটি রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন ভারী যানে করে ইট ও মাটি বহণ করছে ইটভাটা মালিকরা। এতে ৫ কিলোমিটার রাস্তা সম্পূর্ণ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রাস্তার পাশের মাটির ঘরবাড়িতে দেখা দিয়েছে বড় ধরণের ফাটল। এছাড়া রাস্তার ধুলো বালিতে শ্বাসকষ্ট সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে অনেকেই। চরম ঝুঁকিতে বসবাস ও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে এখানকার মানুষ। দেখার যেন কেউ নেই। অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
সূত্র অনুযায়ী উপজেলায় ১৪ টির মতো ইটভাটা রয়েছে। যার মধ্যে অর্ধেকের ও বেশি ইটভাটা রয়েছে উপজেলার চাঁদখালীতে। এ-সব ইটভাটার বেশিরভাগই পরিবেশ ছাড়পত্র সহ বৈধ কোন কাগজপত্র নেই। আবার গড়ে তোলা হয়েছে জনবসতি এলাকায় এবং কৃষি জমি নষ্ট করে। ভাটা গুলো একদিকে যেমন কৃষি জমির টপ সয়েল দিয়ে তৈরি করছে ইট, এতে উৎপাদন কমে আসছে কৃষি ফসলের। অন্যদিকে ট্রাক্টর ও ভেকু সহ ভারী যানে করে বহণ করছে ইট ও মাটি। এর ফলে প্রতিবছর ধ্বংস হচ্ছে কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদ। বিশেষ করে ইটভাটার আশেপাশের সরকারি রাস্তা গুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের দেবদুয়ার শেখ পাড়া থেকে বড়দল ব্রীজ পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার সরকারি রাস্তা বিলিন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন চলছে ইট ও মাটি বহণকারী ট্রাক্টর ও ভেকু সহ অন্যান্য ভারী যান। দেবদুয়ার গ্রামের রেজাউল সরদার বলেন প্রশাসনের নিরব ভূমিকার কারণে গ্রামের মানুষের চলাচলের রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন ভারী যানে করে ইট ও মাটি বহণ করছে ইটভাটা মালিকরা। তিনি বলেন সারারাত এবং সারাদিন এই রাস্তা দিয়ে অবাধে ট্রাক্টর ও স্কেভেটর চলার কারণে যাতায়াতের রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা ভয়ে রাস্তায় চলতে পারে না। আমরা এলাকাবাসী নিষেধ করলেও ভাটা মালিকরা গুরুত্ব দেয় না। একই এলাকার বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম বলেন পরিবার পরিজন নিয়ে রাস্তার পাশে মাটির ঘরে বসবাস করে আসছি। ইটভাটার মাটি বহনকারী ট্রাক্টর ও ভেকু চলাচলের কারণে আমার বসতঘরে বড় ধরণের ফাটল দেখা দিয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে আমার বসতঘরটি ধ্বসে পড়তে পারে এমন আশঙ্কা রয়েছে। মনোয়ারা বেগমের মতো অসংখ্য পরিবার ঝুঁকিতে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছে। গৃহবধূ শারমিন আক্তার বলেন যখন ট্রাক্টর ও ভেকু গুলো যাওয়া আসা করে তখন ধুলো বালিতে আচ্ছন্ন হয়ে যায় গোটা এলাকা। এর ফলে অনেকেই শ্বাসকষ্ট সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। ট্রাক্টর চালক আবিদ হাসান বলেন এ কাজ করে সংসার চলে, ভারী যান চলাচল কিংবা মাটি বহণ করার বিষয়টি সম্পূর্ণ ইটভাটা মালিকদের বিষয়। বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ কে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী রাজু হাওলাদার। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন ইটভাটা পরিচালনার করার নামে সরকারি সম্পদ নষ্ট করার কোন সুযোগ নাই। এটা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং অপরাধমূলক কাজ। তিনি বলেন সরকারি মাটি কাটা এবং পরিবহনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন থেকে একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী এ কর্মকর্তা জানান।