
মো: শেখ শামীম, বটিয়াঘাটা খুলনা :
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার সুরখালী ইউনিয়নে সরকারি অর্থে বাস্তবায়নাধীন দুটি ইট সোলিং নির্মাণ কাজে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অধিভুক্ত প্রকল্প দুটির কাজের মান ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে রায়পুর খেয়াঘাট থেকে ভগবতীপুর মাঙ্গা নদীর অভিমুখে ১৫৭৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৮ ফুট প্রস্থের ইট সোলিং নির্মাণ কাজ পান ঠিকাদার মোঃ ফজলুর রহমান। অপরদিকে প্রায় ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে রায়পুর খেয়াঘাট ওয়াপদা থেকে ভগবতীপুর গেট অভিমুখে ১৩১৩ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৭ ফুট প্রস্থের আরেকটি কাজ পায় মেসার্স সুমি এন্টারপ্রাইজ।
সমতল না করেই বালির ওপর ইট বসানোর অভিযোগ
স্থানীয়দের। ইট সোলিং কাজ শুরুর পূর্বশর্ত অনুযায়ী ওয়াপদা সড়ক প্রথমে সমতল করে তার ওপর নির্ধারিত পরিমাণ বালি দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে বহু স্থানে রাস্তা সমান না করেই বালি ফেলে তার ওপর ইট বসানো হয়েছে। এতে নিচের অংশে ফাঁকা জায়গা থেকে যাচ্ছে।এলাকাবাসীর আশঙ্কা,বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানিতে বালি সরে গেলে ইট উঁচু-নিচু হয়ে রাস্তা দ্রুত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। ফলে সরকারের অর্থ ব্যয়ে নির্মিত সড়ক দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার বদলে অল্প সময়েই নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। সরকারি স্টিমেট অনুযায়ী ইটের নিচে ৪ ইঞ্চি ও উপরে ১ ইঞ্চি বালি দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে বহু স্থানে মাত্র ১.৫ থেকে ২.৫ ইঞ্চি বালি ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের । কোথাও কোথাও ইটের ওপর নামমাত্র বালি ছিটিয়ে কাজ শেষ করা হয়েছে, আবার কিছু স্থানে বালি ছাড়াই কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
এছাড়া হ্যাজিংয়ের বাইরে ১ ফুট টাইট মাটি দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও সেখানে আলগা ও হালকা মাটি ব্যবহার করা হয়েছে। অনেক জায়গায় আদুলী ইট ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। যা রাস্তার স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে। ভগবতীপুর এলাকার বাসিন্দা অমল মণ্ডল বলেন, রাস্তা সমান না করেই ইট বসানো হয়েছে। বৃষ্টি হলেই বালি সরে গিয়ে ইট দেবে যাবে। দুই বছরও টিকবে না। রায়পুর এলাকার বাহাউদ্দীন সরদার বলেন, স্টিমেট অনুযায়ী কাজ হলে রাস্তা অনেক টেকসই হতো। এত কম বালি দিয়ে কাজ করতে আমি কোথাও দেখিনি। এখানে স্পষ্ট অনিয়ম হয়েছে। একই ঠিকাদারের নিয়ন্ত্রণে দুই প্রকল্প। তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, কাগজে-কলমে দুটি প্রকল্প দুই প্রতিষ্ঠানের নামে থাকলেও বাস্তবে চুক্তি ভিত্তিক ভাবে উভয় কাজই পরিচালনা করছেন ঠিকাদার মোঃ ফজলুর রহমান। ফলে দুই প্রকল্পেই একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযুক্ত ঠিকাদার মোঃ ফজলুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কাজে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না। বটিয়াঘাটা উপজেলা প্রকৌশলী গৌতম কুমার মণ্ডল বলেন, বিষয়টি আমার অফিসের সার্ভেয়ার রাগিব হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সার্ভেয়ার রাগিব হাসান বলেন, কাজে কিছু অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। ঠিকাদারকে সঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খুলনা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সরদার বলেন, বিষয়টি বটিয়াঘাটা উপজেলা পরিষদ ও নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করুন।সরকারি অর্থে নির্মিত সড়কে এমন অনিয়মের অভিযোগে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।















