বিশেষ প্রতিনিধি, খুলনা :
দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্য দিবালোকে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জমি দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ পাকা স্থাপনা নিয়ে একের পর এক সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে নড়েচড়ে বসে কর্তৃপক্ষ। শেষ পর্যন্ত খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার সুন্দরমহল এলাকায় পাউবো ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো পাউবো’র জমিতে গড়ে ওঠা সব অবৈধ স্থাপনা। সূত্র জানায়, স্থানীয় এক বিএনপি নেতার সহযোগিতায় এসব অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা হয়। বিষয়টি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হলে কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে। শনিবার সকাল থেকে ২৯ নম্বর পোল্ডারের আওতাধীন সুন্দরমহল বাজার এলাকায় যৌথ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে পাকা ঘর, ভবনসহ বিভিন্ন স্থায়ী অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়। একসময় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই যেসব স্থাপনার নির্মাণ চলছিল, সেগুলোই এবার প্রশাসনের উপস্থিতিতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
পাউবো সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সংশ্লিষ্ট দখলদারকে লিখিত নোটিশ প্রদান করা হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, পোল্ডার নং–২৯-এর অধীন সুন্দরমহল মৌজায় এলএ কেস নং–৫৯/৬৭-৬৮ এর মাধ্যমে অধিগ্রহণকৃত এসএ দাগ নং ১০০, ১০১, ১০২, ১০৩, ১০৪, ১২১ ও ১২২-এর জমিতে অনুমতি ছাড়াই পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। নোটিশে আরও বলা হয়, উক্ত জমি বিআরএস জরিপে ৯৩, ০৯৫ ও ৩৮১/৫৭৮ নং দাগের ২ নং খতিয়ানভুক্ত, যা সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন সরকারি সম্পত্তি। মৌখিক ও লিখিত নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নির্মাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়াকে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের শামিল এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। নোটিশে দেওয়া ৭ দিনের সময়সীমা পার হলেও দখলদাররা অবৈধ স্থাপনা অপসারণ না করায় শেষ পর্যন্ত যৌথ উচ্ছেদ অভিযানে নামতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. থান্দার কামরুজ্জামান বলেন, পোল্ডার ও বাঁধ রক্ষায় কোনো ধরনের অবৈধ দখল বরদাস্ত করা হবে না। সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে চলবে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল কুমার সেন বলেন, পাউবো’র জমি ও পোল্ডার রক্ষায় আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। অবৈধ দখল উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়দের মতে, প্রশাসন যদি আরও আগে এ ধরনের উদ্যোগ নিত, তাহলে পোল্ডার এলাকায় দীর্ঘদিনের দখল, ঝুঁকি ও অব্যবস্থাপনার সৃষ্টি হতো না। তারা দখলদারদের বিরুদ্ধে স্থায়ী ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।